Saturday, 3 November 2018

জাদুলন্ঠন / স্মৃতি পাল নাথ 🚣🚣🔔🌧🕧 🌿🌿🌿

ঈশ্বর, সজারুর কাঁটা গায়ে
আর কত দিন আত্মরক্ষায়
অক্ষত রাখব নিজেদের
যন্ত্রণার ছুরি ঝলসে ওঠে
ব্যথা,বিষম ব্যথা সত্যকে ছুঁয়ে দেখে।

মৌচাক সুরক্ষিত রয়েছে দেখে সৃষ্টিছাড়া উল্লাস
গুমোট ঘরে হৃদপিণ্ড ধুকপুক করছে
এক অনুভূতি আউল বাউল ছন্দ তুলে বিষম খায়
এলেবেলে ভাবনার সঙ্গে ঘুরি ফিরি
কুপোকাৎ উদ্বেগকে দেখি উৎকন্ঠায় নাচে
বনজ্যোস্নায় মিশে থাকে চোরাঘুর্ণি মন
ষড়যন্ত্র সেরে কেচ্ছাগুলি কিলবিল করে
উঁইঢিবি বাল্মীকি হয়েছে
দস্যু তার কথা ভুলে গেছে

প্রসাধনলিপ্ত মুখগুলি
ঘুরে ঘুরে দু'হাতে
বৃষ্টির ফোঁটা ধরে এক কিশোরী
মেঘছেঁড়া হাসি তার সর্বাঙ্গে দ্যুতি
লুপ্ত সভ্যতায় ফেরে কিছু যুবক
আজ প্রাচীন বৃক্ষকে কুর্নিশ করে ।

তোমাদের কথা সাঙ্গ হলে এদিকে এসো
দীর্ঘতর এক প্রতীক্ষায়
অন্যমনস্ক মানুষটি পাশ ফেরে
উল্কাপাত হয়ে গেল
সিন্দুকে জমে আছে ----
ক্ষোভ,তিরস্কার, ঘৃণা ও দলবাজি
স্কুলের ঘন্টা কি বাজল? 
পাঠশালার দিনগুলি অদ্ভুতেড়ে গল্প শোনায়
চিঠি বিলি করে যে ছেলেটি আজ প্রৌঢ় হয়ে গেল
তার ঝোলায় অযুত কবিতা লক্ষ কোটি ভালবাসা
দীর্ঘশ্বাসের মতো ঝকমকিয়ে ওঠে
ভালবাসার মুখগুলি উঁকিঝুকি দিতে শুরু করে 
ফুলকি যেন। 
আনাগোনা করে ছদ্মবেশী সার্কাসের লোক
ট্রাপিজের খেলা দেখায়
উন্মাদের ঘর থেকে যুক্তি ভেসে আসে
যে ভাষায় লিখি নাকো ছেঁদোকথা হয়
রূপকথারা উক্তি করতে ভালবাসে
প্রস্তরযুগের দুয়ার খুলে
চকমকি পাথর দেখায় এক কবি
সুর বয়ে নিয়ে আসে বৃহন্নলা সময়
বড় একাকী আজ
দুঃসময় গেঁঢ়েছে ঘাঁটি
ছাইভস্ম লিখি
টের পাই বৃষ্টি হচ্ছে খুব ধীরে
মেঘগুলি উবে যাচ্ছে
সরযূ নদীর তীরে
রামায়ণকথা উত্থানপতনে মেশে
পথরেখা জুড়ে থাকে ঈশ্বরের পদধ্বনি
শিল্পের ইতিহাস বিবর্তন ধরে এগোয়
খবরের কাগজ দেখো, কে জ্বালে অস্মিতা
সিন্দুক ঘরের চাবি তার কাছে রাখা
পত পত করে পতাকা
প্রেতচ্ছায়া লিখে রাখে মোমবাতির আত্মকথা
শান্তিটুকুই যাকিছু বাকি নিয়ে যেও না।
অগ্নিগর্ভ জনপদ
বিস্তৃত হতে থাকে ক্রন্দন
তাকে ভুলে যেও না
শিশুর কলরব ধেয়ে আসে
মৃতসন্তানের মা আছাড়ি পিছাড়ি কাঁদে
কী করে সান্ত্বনা দেবে তাকে
কোন মহাকবি দ্বিধাদ্বন্দ ভুলে
লিখতে পারবে এসময় ভালবাসার গূঢ় কাহিনি
রোষাগ্নি জ্বলে,
বৃন্তচ্যুত হওয়ার ভয়ে ঘুরতে থাকে
লাটিমের মত অবিবেচনা
চলতে থাকে রুদ্ধশ্বাস নাটক
জাপটে ধরে অগ্নিশিখা
দুহাতে ছড়াই রোদের ধারা
বালুচর পলিজমি রাজ-রাজড়ার ভবন
সবই তো তাসের ঘর
একটু নড়ছে পাথর বন্ধ গুহার
খসে পড়ে ঝুরঝুরে মাটি
চলকে ওঠে মন খারাপের এক চিলতে নদী
যাত্রী ওঠে যাত্রী নামে
নদীর ঢেউ চলতে থাকে
উদ্বল নদী ডাকে
ঢেউ খেলে যায়
অপাপবিদ্ধ রইব কোথায়? 

পাখনা গজায়
পতঙ্গ সব উল্লাস করে
স্ফুলিঙ্গ দেখে, উড়ন্ত তারকা
বিষের দাগ,
উদাসী হাওয়া ভাসিয়ে নেয় গুনগুন সুর
কাছাকাছি চাঁদ আটকে থাকে
একটি ডিঙা ভেসে ওঠে
কপাটখোলা মন খারাপের
মনের ভেতর একলা আকাশ একলা আকাশ
উল্কামালা
মারকাটারি ভঙ্গি তার
পায়রাগুলি সুরধ্বনি তোলে
                      বকবকম
ছিপনৌকায় মাছধরা জাল
হাঙর আর কুমিরগুলো তেজ দেখায়
মনুষ্যত্ব লোপাট হয়
তাণ্ডবের  নাচন,
আগুনের গন্ধ
জ্ঞানগম্যি নাই।
পা ছড়িয়ে কাঁদতে যাই
ছিন্নমূল পরিচয়,
জাদুলন্ঠন লাফিয়ে আসে
বিপন্নতায় ভয় খাওয়া মুখে ছুটতে থাকে
দশ গেরামের লোকজন...

No comments:

Post a Comment

ছদ্মবেশে / স্মৃতি পাল নাথ

প্রতিধ্বনির মত কিছু কথা ভাবায় ফুটে থাকে চিন্তার অলিন্দে রং হয়ে ওড়ে বসন্ত বাতাসে কিছু কাঁচপোকা ঘুরে পৌষের মাঠে খড়ের গন্ধ লেগে থাকে হেমন্...