Monday, 19 November 2018

মায়াবী কুটির, নীল বিষ / স্মৃতি পাল নাথ 🌱🐟🌿🍁🏡🌿🌱🌾

হেমন্তের মাঠের পাশে
দাঁড়িয়ে ডাকলে যে,
মনখারাপ? ধুলো উড়ছে
জাদুকরী শব্দ কাঁপে
হেসেখেলে সুরে ধরে গান
তোমায় ভুলব না।
নদীর কাছে দাঁড়ালে
স্রোতগুলো ছোঁয় আমায়
পা ভিজালে
সর্বাঙ্গে ভালোবাসা জড়াই
মরুভূমি সিক্ত হয়ে ওঠে
সবুজ গ্রাহ্য করে মরুদ্যান
কাছে চলে আসে
নদীটির জল গেরুয়া কিংবা নীল
যাই হোক,দুর্বার হতে জানে সে
গুল্মলতা, পাইনগাছ গেরস্তের উঠোনের টগর বেলি
রাধাচূড়া ফুলে ফুলে ঝাঁপায় কৃষ্ণচূড়া উতরোল
নদী ও বাগিচা সম্মোহন জাগায় পরীদের
আগুন পুড়ে পুড়ে আছড়ে পড়ে
বরফ জমাট বেঁধে জলকে চ্যালেঞ্জ করে
কেউ কাউকে মুখোমুখি হতে দেয় না
জল জানে সংশয়
রাত বাড়লে নেকড়ে ঘোরাঘুরি করে
জঙ্গল থেকে লোকালয়ে চলে আসে
কচুরিপানায় ভরে গেছে যে খালবিলগুলো
তাতে ফুটে উঠেছে কোথাও শালুক 
জলাশয় ভেদ করে নামেনা তো কেউ
উটপাখি এক আত্মীয়তা করে
মরুতৃষা জেগে রয়
অন্তরে অভ্যন্তরে
সবুজের কথা ভেবে পাগল
মরুভূমি তবু হেঁটে আসে
ভেতর থেকে অধৈর্য হয়ে
কিছু পংক্তি বেরিয়ে আসে
একটি গাছের জন্ম এইভাবেই হয়
হতাশায় ফেটে বীজ ছড়িয়ে পড়ে
গভীরে ভাবনা চেতনায় ধারাপাত
গুণীতক চলে,যোগ বিয়োগ।
পরস্পর সমান্তরাল পথ ধরে হাঁটে
কেউ কাকে ছোঁয়না
তবু আশ্চর্য্য নীল
উদ্বেগের সঙ্গে চক্রবৃদ্ধি চলে
ধানক্ষেতে হাওয়া দুলতে থাকে
হেমন্তের মাঠ,ধানের শীষগুলো
লক্ষ্মী লক্ষ্মী চেহারায় গৃহস্থকে আশ্বাস দেয়
ধানের গন্ধ লাগে নাকে
কল্পনা ও কৌতুকে কেটে যায়
কার্তিকের সন্ধ্যা
একটি দিগন্ত রেখা ভাসে চোখের 'পরে
হেলেদোলে আসে নাটমঞ্চে কথক
স্বপ্নের ঘোরাফেরা চলে
অন্তহীন পথ ধরে অনন্তকাল
যন্ত্রণার বিছুটিপাতা শরীরে লাগে
এ থেকে কারও নিস্তার নেই
ভালোবাসা, অশ্রুজল এইখানে
তোর নাম লেখা আছে বুকে
ফেলে আসা
সাত সাগরের ঢেউ খেলা করে
অন্দরে বাহিরে
ঘন নীল শরীর ছেয়ে
ছল ছল জল চলে
মায়াবী কুটীর
ভালোবাসার নীল বিষে
বিজলি চমকে ওঠে
সমুদ্দুরে নীল মিশে যায়
জাদুদুয়ার খোলা থাকে
আসনখানি উল্টে রাখি
জোগাড় যন্তর রইল পড়ে
বেশ তো আছি,সর্বনাশী
আত্মপর ভুলে। 
দিনটুকু যায়
আঁশটে গন্ধে যেমন থাকে জেলে বুড়ো
জাল হাতে এগিয়ে যায়
মৎস্য শিকার জীবনব্যাপে চলতে থাকে
টের পায়না অনেক সারস, বক, মাছরাঙা
ভিটেমাটি সুখ সবার সয় না
একটি দু'টি জীবন
বহুজীবনে ঢুকে পড়ে
হলুদ ফুলে ভ্রমর নাচে
একলা দাঁড়াই ছাতা হাতে
হঠাৎ কেন হুঁশিয়ারি পাগলাদিয়া ফুঁসে ওঠে
এইখানেতে
সুরে সুরে গান করে
একটা দুটো
গানেপাওয়া লোক
বাউল নাতো। 
দিগম্বর মন
ঊর্ণনাভ, তোর রূপ আমি
বেশ চিনি
ঠকতে জানি
দাঁড়াতে জানি অক্লেশে
ছলচাতুরি ঝেড়ে কাশে অগ্নিকুণ্ড
হৃৎপিণ্ডে ছায়া ফেলে অনিঃশেষে
তোর রূপের দেমাক ধিকি ধিকি জ্বলতে থাকে
তোমার ভয়
তোমাকে আড়াল করে
কেউ কাউকে ডাকবে না
তবু এসে ভীড় করে ক'টি দামাল
ভাসানের মন্ত্র চরাচরে ভেসে যায়
তোমার সঙ্গে দেখা হয়না,রাখাল
নাকে লাগে আমনের ঘ্রাণ
তল্পিতল্পা গুটিয়ে পালিয়ে যায়
কিছু ভুল বাসনা
যাযাবর ইচ্ছারা কথা বলতে থাকে।
ছেলে তুই দুর্বিপাকে
আড়াল করিস নিজেকে
জাদুকলস আমার হাতে ধরা
প্রলুব্ধ কামনা
নীল সাগরের আহ্বান
নাবিক জলের গন্ধ টের পায়
জুয়ারী প্রেম
জোয়ার ভাঁটা মেপে দেখে
বাতিঘর সন্ত্রস্ত
পথ না ভুল করে জাহাজ
তোমার কথা শুনব না
বলে বলে মেয়েটি হেঁটে গেছে
সঠিক দিশায়
এমন উদাহরণও আছে
তার কব্জি ভালোবাসা দিয়ে তৈরি
ভালোবাসা দ্বন্দ্ব করেনা
উদযাপন করে
উড়তে থাকে পায়রারা
বকবকম করে
কার্নিশে বসে
ধুলোবালি হল সারা
এলোপাথারি বসে থাকে
শান্তি প্রদীপ
ধরাছোঁয়া যায় না
লহর ভুলে সমুদ্র নিস্তব্ধ
কল্পনায়ও আসেনা
নাবিক তবু ঘরে ফেরে
সমুদ্র বাতাস তার শরীরে লেপটে থাকে।

No comments:

Post a Comment

ছদ্মবেশে / স্মৃতি পাল নাথ

প্রতিধ্বনির মত কিছু কথা ভাবায় ফুটে থাকে চিন্তার অলিন্দে রং হয়ে ওড়ে বসন্ত বাতাসে কিছু কাঁচপোকা ঘুরে পৌষের মাঠে খড়ের গন্ধ লেগে থাকে হেমন্...