Friday, 30 November 2018

ডিটেকটিভ যেন / স্মৃতি পাল নাথ 🌿🍀🌱🍁🚣🐟🌿🌱🍀🍁🌵🌹🌿

অভিযোগ বিছুটি পাতার মত চুলকোয়
সময় এগিয়ে আসে চুমু খায়, দাপায়
হয়তো জানা নেই
অক্লেশে আমার দিনগুলো
ভালোবেসে কাছে এগিয়ে আসে
শ্যাওলা পড়ে আছে
উঠোনে পা রাখতে ইতস্তত বোধ
সৌধ নির্মাণ হয়নি এখনও
তপোবনে হাঁটে রাইকিশোরী
এলোচুলে ফুরফুরে হাওয়া
পতাকার নিচে দাঁড়াতে ভয়
চরণতলে মরণ
স্বচ্ছ নই,
এও হতে পারে রাজনীতির অজগর
এতো যত্ন করে দিকনির্দেশ করছ
ধুলো বালি উড়ছে
দুলছে ধ্রুপদী চামর
শব্দের সঙ্গে দেখা হলেই হল

ঈশ্বর যেন স্বগতোক্তি করে
ছিন্নভিন্ন বসন্ত
শব্দের দাঁড় বায়
মৃত্যুঞ্জয় স্বয়ং
কৌতুক করে দূত
কতকাল ছায়া ভালোবাসা
সংবেদী হয়
সাগরের অপেক্ষা করে
সহাবস্থান খেলা
চেতনাস্তর ছুঁয়ে
উদঘাটন করে অভিমান
লোকায়ত বহুরৈখিক জীবন
বাজপাখি এক ফিরে যায়
পরিজনের সঙ্গে সমৃদ্ধ স্বর খলবল করে
ডিটেকটিভ যেন

তীরন্দাজ এক আখ্যান নিয়ে আসে
ছেঁটে দিতে কর্মশালায়
স্পর্ধিত গোলাপ
ঘটনাবহুল কাণ্ড করে যম, যমদূত
চকচকে লোভ,দুন্দুভি বাজায়
ডম্বরু এক নাচতে থাকে
শূন্যে ভাসে সাজানো বাড়ি, অভিশাপ

কীর্তিনাশা আষাঢ়ে মেঘ চ্ছলাৎ করে
খিড়কি দুয়ার খুলে বেড়ায়
বয়ান সব ঘুরে যায়
উপঢৌকন চলে না
ঊর্ধে আছে স্বাধীনতা
পার্থিব সুর
অন্ধকারের গর্ভে লেপ্টে আছে পরিত্রাণ
কুয়াশায় ভরে যায়
ঐকতান সুরে ভাসে
উন্মুক্ত অহংকার
সুখ দুঃখের অভিন্নতা
ছিটকে পড়ে
কীর্তনিয়া যায় যে চলে
স্নিগ্ধতা নির্ভেজাল, গমক চলে
মিতব্যয়ী হতে চেয়ে
ধীরভাবে এগিয়ে যায়
উপত্যকা থমকে দাঁড়ায়
উদগার বাসনা
এত বেশি কাঁটাগাছ
যারপরনাই উল্লাস
আড়ষ্টতায় উল্টে পড়ি
পরিচর্যা কুহক দেখায়
বনভূমি জাগতে থাকে
অনেক দূরে পথ দেখা যায়
জুচ্চোর এক ফুঁ দেয়
সদলবলে রাস্তা হাঁটে
জঞ্জালে ভরে আছে
মজুরি খাটে প্রান্তজন
নিভৃতে দিগন্ত ছোঁয়
জুয়ারি সঙ্গে থাকে
ফুল ফুটে রয়
তিলতণ্ডুল বেলপাতা অগুরু,চন্দন...

Thursday, 29 November 2018

জ্যামিতিক / স্মৃতি পাল নাথ 🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹 🌿🌿🍀🌱🌳🌾🌿🍀🌾🌱🍃🍂

তোমার জন্য ফাই ফরমাস খেটেও
গরিমায় মাটিতে পা পড়ে না
শূন্যতা লাফিয়ে ওঠে, পা টলে যায়
শৌখিনতা শীতলপাটি বিছিয়ে দেয়
ফন্দি ফিকির চলতে থাকে, আহামরি
বেদুঈন এক জ্যোৎস্না রাতে চাঁদ হয়ে হাঁটে
মরুভূমি জেগে ওঠে
উদরপূর্তির মত আত্মঘাতী সত্য আর কিছু নেই
একা একা উৎসব পায়ে পায়ে হাঁটে
ছারপোকা ঘুরে বেড়ায়
পরিণত বয়সে সম্ভ্রম শেখায় ধর্মের ষাঁড়! 
ভাত কাপড়ের চিন্তা তড়পায় না
লোভ ও ভয় বেকার মেয়েকে পোড়ায়
চণ্ডাল,চণ্ডাল।

লুন্ঠিত বিশ্বাস ফিরে আসে,
এ যেন রূপকথা আর ইন্দ্রজাল
ভিক্ষে করে ভালোবাসা গান গেয়ে যায়
অন্ধনিয়তি ধমনী তোলপাড় করে
রক্তের রং নীল হয়ে যায়
চাকরি খুঁজতে হয়রান ---
কয়েক জোড়া চটি মুচির ঘরে যায়
ধনুকের ছিলার মত ছিটকে ওঠে সুবোধ বালক
অর্থনীতিকে সে বাগ মানাতে পারেনা
চাঁপাফুলগুলো তবুও ফোটে
শূন্য ভাঁড়ারে ধান ভরে যায়
অলৌকিক কিছু মায়া ঝুলতে থাকে
প্রতিবিম্ব সরে যায়
ভেঙে যাওয়া মানুষের ফুসফুসে বাতাস এসে লাগে
শাম্পান দৌড়ে চলে...

Wednesday, 28 November 2018

জ্ঞানগম্যি নেই / স্মৃতি পাল নাথ 🌿🌱🍁🌾🌹

কুঁড়েঘর থেকে উঠে আসে ইন্দ্রজাল অবোধ দৃশ্যপটে
পথ থেকে যেমন ধুলো মেখে বাড়ি ফেরা
নিরুচ্চারে ভেঙে যাচ্ছে একটু একটু করে
ফাটলের রেখা বেড়িয়ে পড়ছে
কলমিলতায় ফুল ফুটে উঠছে পুকুরে
ছায়াতরু জানে শান্তি বারতা
ঘ্রাণ ছুঁয়ে ফিরে ফিরে যাওয়া
জলজ উদ্ভিদের খোঁজে
জলাশয়ে লেগে থাকে পিপাসা
একটি তাঁবু অপেক্ষা করে
মিইয়ে পড়া মানুষগুলোর জন্যে
তাঁবুর জীবন
বরেণ্য লোকেরা কিছু কম বুঝতে পারে
ব্যবহৃত হতে হতে চামচা মানুষ
খোলসের রং বদলায়
অরণ্য জাগতে থাকে একটু একটু করে
দিশাহীন লাবণ্য ঝরে
গাছগাছালি সবুজ হতে থাকে
এই দেখো কী পূর্ণতা, অমলিন ভাব
কিছু অমায়িক কথা
তন্দ্রা নিয়ে আসে
বোতলে ভরে রাখা আচার যেন
নির্নিমেখ চেয়ে আছি
কে জানি পিছন থেকে
সার্কাসের মায়াজাল তুলে ধরে
কুহক নেই
অবসাদ মাড়িয়ে
কিছু উষ্মা হেঁটে যাচ্ছে
ঘুম থেকে জেগে উঠছে মায়াবাস্তব
ভাটি গাঙে দেখা হবে
আনাচে কানাচে মায়া পড়ে আছে
ভ্রম হয়, উজানে যাওয়া ঠেকায় কে
শ্রান্ত প্রতিদিন,নাবিক এক নড়েচড়ে বসে
সময়কে তুচ্ছজ্ঞান করে
কারা এগিয়ে যেতে পারে জানা নেই
অষ্টপ্রহর গান লেগে থাকে। 
লোকলাজ ভুলে গণিতের পথ ধরে
যুদ্ধসাজ চলে
মোচ্ছব সেরে ছন্নছাড়া এক নগরবধূ
আধো ঘুমে জাগতে থাকে
সংকেত পাঠায় পরম্পরা
ছদ্মবেশ না ধরেই অনর্গল
জাদুঘর থেকে মানুষ বেরিয়ে আসে
উল্লাস করে, কেউ কেউ দীর্ঘশ্বাস ফেলে
রীতিনীতি ভুলে যায়
স্মারক চিহ্নগুলি প্রত্যাশা বাড়ায়।

কিছু না কিছু সংলাপ তৈরি হতে থাকে
নাশকতা জানা নেই
নুন লঙ্কা ছিটাও কেন
জ্ঞানগম্যি নেই স্বভাব অমন
গোপন দাবদাহে জ্বলে
মনস্তাপ ভুলে হাবুডুবু খায় এক বালক
বানভাসি, কেঁপে ওঠে জননী
সম্বিত ফেরেনা মেয়েটির।
বালিয়াড়ি ভরা নদীটির দিকে
হাঁটতে থাকে পুরনারী
         অকুতোভয়
      লক্ষ্যভেদী বাণ ছোঁড়ে কে
      কোনও আদল নেই
      বক্তৃতা করো না।
জাহান্নমের পথ দেখা যায়।

Monday, 19 November 2018

মায়াবী কুটির, নীল বিষ / স্মৃতি পাল নাথ 🌱🐟🌿🍁🏡🌿🌱🌾

হেমন্তের মাঠের পাশে
দাঁড়িয়ে ডাকলে যে,
মনখারাপ? ধুলো উড়ছে
জাদুকরী শব্দ কাঁপে
হেসেখেলে সুরে ধরে গান
তোমায় ভুলব না।
নদীর কাছে দাঁড়ালে
স্রোতগুলো ছোঁয় আমায়
পা ভিজালে
সর্বাঙ্গে ভালোবাসা জড়াই
মরুভূমি সিক্ত হয়ে ওঠে
সবুজ গ্রাহ্য করে মরুদ্যান
কাছে চলে আসে
নদীটির জল গেরুয়া কিংবা নীল
যাই হোক,দুর্বার হতে জানে সে
গুল্মলতা, পাইনগাছ গেরস্তের উঠোনের টগর বেলি
রাধাচূড়া ফুলে ফুলে ঝাঁপায় কৃষ্ণচূড়া উতরোল
নদী ও বাগিচা সম্মোহন জাগায় পরীদের
আগুন পুড়ে পুড়ে আছড়ে পড়ে
বরফ জমাট বেঁধে জলকে চ্যালেঞ্জ করে
কেউ কাউকে মুখোমুখি হতে দেয় না
জল জানে সংশয়
রাত বাড়লে নেকড়ে ঘোরাঘুরি করে
জঙ্গল থেকে লোকালয়ে চলে আসে
কচুরিপানায় ভরে গেছে যে খালবিলগুলো
তাতে ফুটে উঠেছে কোথাও শালুক 
জলাশয় ভেদ করে নামেনা তো কেউ
উটপাখি এক আত্মীয়তা করে
মরুতৃষা জেগে রয়
অন্তরে অভ্যন্তরে
সবুজের কথা ভেবে পাগল
মরুভূমি তবু হেঁটে আসে
ভেতর থেকে অধৈর্য হয়ে
কিছু পংক্তি বেরিয়ে আসে
একটি গাছের জন্ম এইভাবেই হয়
হতাশায় ফেটে বীজ ছড়িয়ে পড়ে
গভীরে ভাবনা চেতনায় ধারাপাত
গুণীতক চলে,যোগ বিয়োগ।
পরস্পর সমান্তরাল পথ ধরে হাঁটে
কেউ কাকে ছোঁয়না
তবু আশ্চর্য্য নীল
উদ্বেগের সঙ্গে চক্রবৃদ্ধি চলে
ধানক্ষেতে হাওয়া দুলতে থাকে
হেমন্তের মাঠ,ধানের শীষগুলো
লক্ষ্মী লক্ষ্মী চেহারায় গৃহস্থকে আশ্বাস দেয়
ধানের গন্ধ লাগে নাকে
কল্পনা ও কৌতুকে কেটে যায়
কার্তিকের সন্ধ্যা
একটি দিগন্ত রেখা ভাসে চোখের 'পরে
হেলেদোলে আসে নাটমঞ্চে কথক
স্বপ্নের ঘোরাফেরা চলে
অন্তহীন পথ ধরে অনন্তকাল
যন্ত্রণার বিছুটিপাতা শরীরে লাগে
এ থেকে কারও নিস্তার নেই
ভালোবাসা, অশ্রুজল এইখানে
তোর নাম লেখা আছে বুকে
ফেলে আসা
সাত সাগরের ঢেউ খেলা করে
অন্দরে বাহিরে
ঘন নীল শরীর ছেয়ে
ছল ছল জল চলে
মায়াবী কুটীর
ভালোবাসার নীল বিষে
বিজলি চমকে ওঠে
সমুদ্দুরে নীল মিশে যায়
জাদুদুয়ার খোলা থাকে
আসনখানি উল্টে রাখি
জোগাড় যন্তর রইল পড়ে
বেশ তো আছি,সর্বনাশী
আত্মপর ভুলে। 
দিনটুকু যায়
আঁশটে গন্ধে যেমন থাকে জেলে বুড়ো
জাল হাতে এগিয়ে যায়
মৎস্য শিকার জীবনব্যাপে চলতে থাকে
টের পায়না অনেক সারস, বক, মাছরাঙা
ভিটেমাটি সুখ সবার সয় না
একটি দু'টি জীবন
বহুজীবনে ঢুকে পড়ে
হলুদ ফুলে ভ্রমর নাচে
একলা দাঁড়াই ছাতা হাতে
হঠাৎ কেন হুঁশিয়ারি পাগলাদিয়া ফুঁসে ওঠে
এইখানেতে
সুরে সুরে গান করে
একটা দুটো
গানেপাওয়া লোক
বাউল নাতো। 
দিগম্বর মন
ঊর্ণনাভ, তোর রূপ আমি
বেশ চিনি
ঠকতে জানি
দাঁড়াতে জানি অক্লেশে
ছলচাতুরি ঝেড়ে কাশে অগ্নিকুণ্ড
হৃৎপিণ্ডে ছায়া ফেলে অনিঃশেষে
তোর রূপের দেমাক ধিকি ধিকি জ্বলতে থাকে
তোমার ভয়
তোমাকে আড়াল করে
কেউ কাউকে ডাকবে না
তবু এসে ভীড় করে ক'টি দামাল
ভাসানের মন্ত্র চরাচরে ভেসে যায়
তোমার সঙ্গে দেখা হয়না,রাখাল
নাকে লাগে আমনের ঘ্রাণ
তল্পিতল্পা গুটিয়ে পালিয়ে যায়
কিছু ভুল বাসনা
যাযাবর ইচ্ছারা কথা বলতে থাকে।
ছেলে তুই দুর্বিপাকে
আড়াল করিস নিজেকে
জাদুকলস আমার হাতে ধরা
প্রলুব্ধ কামনা
নীল সাগরের আহ্বান
নাবিক জলের গন্ধ টের পায়
জুয়ারী প্রেম
জোয়ার ভাঁটা মেপে দেখে
বাতিঘর সন্ত্রস্ত
পথ না ভুল করে জাহাজ
তোমার কথা শুনব না
বলে বলে মেয়েটি হেঁটে গেছে
সঠিক দিশায়
এমন উদাহরণও আছে
তার কব্জি ভালোবাসা দিয়ে তৈরি
ভালোবাসা দ্বন্দ্ব করেনা
উদযাপন করে
উড়তে থাকে পায়রারা
বকবকম করে
কার্নিশে বসে
ধুলোবালি হল সারা
এলোপাথারি বসে থাকে
শান্তি প্রদীপ
ধরাছোঁয়া যায় না
লহর ভুলে সমুদ্র নিস্তব্ধ
কল্পনায়ও আসেনা
নাবিক তবু ঘরে ফেরে
সমুদ্র বাতাস তার শরীরে লেপটে থাকে।

Saturday, 17 November 2018

নয়নতারা / স্মৃতি পাল নাথ 🌱🌿🌾🍀🍁🌿🏵

চাঁদ ধরতে গেলে চাঁদ পিছলে যায়
ভাত রাঁধতে গেলে হাত পুড়ে যায়
পদ্যের উনুনে হাঁড়ি বসাই
তাই তো জ্বলে হাত
সবুজ কলাপাতায় বেড়ে দিই অন্নপ্রসাদ
খেতে হলে চল ভাই
সবুজ,লাল,ধানিলঙ্কা সঙ্গে নুন
পনির ডাল, উচ্ছেকরলা ছ্যাচড়া আরো আছে
ধোকার ডালনা, কাঁচকলার বড়া পাতে সাজাই
চালতা টক শেষপাতে অমৃত মিষ্টান্ন
প্রাণ আইঢাই পায়তারা করোনা ভাই
চলে এসো শিগগির
আটপৌড়ে কথারা ঝুলে থাকে
গ্রহ নক্ষত্র আকাশে সম্মোহিত সই
ক্ষ্যাপা আমি,পত্রপল্লবে পুষ্পিত বৃক্ষ
জ্যোৎস্না আনচান করে
শিশিরে আচমন আমার
সাগরের জল সর্বদা পাব কোথায়?
দুঃখের নোনা স্বাদ ঠোঁটে এসে লাগে
ব্যাকুল সাগর বুকে উঠে আসে
বকুল ঝরেছিল একদিন যার পথে
সেই দিনগুলো সাঁঝবাতি হয়ে দেখা দেয়
মায়ার মত শুয়ে থাকে আশেপাশে
পায়রারা উড়াউড়ি করে সুখের কার্নিশে
নীরবতা নিশ্চুপে বসে থাকে
পথচিত্র বদলে যায়
তৃষ্ণা
অগণিত শব্দবোধ
মৃত্তিকায় গাছ বেড়ে ওঠে
নয়নতারা তুই
ঝরাপাতা উড়ে আসে ফাল্গুনের শেষ বাতাসে
টের পাই বাক্যের আভা
কুশল জানাতে ভয় পাই
স্তব্ধতার মাঝে উদ্বিগ্ন সুর জেগে থাকে
চাঁদ ধরা দেয় জলের মাঝে
প্রতিবিম্ব কথা বলে
উড়নচণ্ডি মেঘ বাতাসে বেপথু রাত্রি তমসা ঘনায়
উদ্বেল নৌকার যাত্রী দলবেঁধে গান করে
স্তুতিগান ঈশ্বরের
'আল্লা মেঘ দে, পানি দে ' এ গানটি
এখন তো নয় ভাই
পার হয়ে যাই নিশ্চিত
ঢেউগুলো দাপায়
পারাপার মাঝি জানে
তবুও তো ভয় পাই
শ্বাপদসঙ্কুল এ জীবন
লহমায় স্থির আয়ু
ঘুর্ণিবাতাস, ছলছল চোখ আপাদমস্তক জলের গন্ধ
গোলাপ হেসে ফেলে
স্তিমিত ক্রোধ
ভাঁড়ের তামাশা
উদোম পথটিতে একলা হেঁটে যাই আমি
গাছগুলোতে সুঘ্রাণ ঘুরছে
ফুল ফুটবে
কলির উঁকিঝুঁকি
একটি দিনশেষে আলো মুছে যায়
খেলাঘরে আলো অন্ধকার তুমুল কথা চলে
ভ্রমে দিন কাটে
সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে ফেরে
উদরাগ্নি কেঁপে ওঠে
খিদে, বড় খিদে ভাতের ডেকচি উল্টে পড়ে
টগবগে ফ্যানভাত লেগে হাত পুড়ে যায়
কবিতা আমার এইভাবেই লেখা হয়
ভাটিগাঙ দেখা যায়
তীরে এসে উঠে নাও
প্রার্থনা, ঝড় দিও না
হাসিখুশি চাঁদ লটকে আছে আকাশের গায়
বধূটি আনমনা
মূর্খ আমি, আহ্লাদে মাটিতে পা পড়েনা
হালিচারা তুলে নিয়ে গেছে চাষির বউ
দ্বিধা ছাড়া এগোতে পারিনা
সম্ভাব্য আকাঙ্ক্ষাগুলো আলো আর ছায়ায় দোলে
দ্রুত অনুকম্পা এসে ভর করে
সিংহদরজা খুলে যায়
বাতাসের বেগ লুটোপুটি খায়
অমৃতস্য পুত্রা পিছন ফিরে চায়
রাজা,তোর শাসন মানি না
বলার দিন কি এসে গেছে
শাসন চলছে, ক্ষমতার দণ্ড
নারী পুরুষ কোনও বিষয়ই নয়
ক্ষমতা বলে সব কিছু করায়ত্ত তোর
স্তোত্র পাঠ চলে
রাজা যাবি কোথায়?
আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা সময়ের নাগপাশ
আস্তগাধা।
দৌড়ে যায় বিবেক, বুদ্ধি, লয়
ভ্রমরের গুঞ্জন শোনা যায়
মধুলোভী মধুসংগ্রহকারীর সঙ্গে তার দেখাসাক্ষাৎ
আস্তাবলে ঘোড়া বাঁধা আছে
রাজা চলে বনবাস বনপথে হাটা চলা শিকার ধরা
মৃগয়া ভূমি।
নেশা আর বিনোদন পথিমধ্যে চলে
জীবন অনুকম্পা মাত্র
কে বা কার কথা শোনে
ভ্রূকুটি শোনেনা, দেখেনা শুধু চাঁদ সূর্য নক্ষত্র
উল্কাপাত চলে
কত কী বাঁধা আছে কপালে
অস্তাচলে তপন
সরগরম সূর্যের দেশ খলবলিয়ে ওঠে
গোধূলি, রাত
তোমাকে তো চিনি না
অনুযোগ ছাড়া তার চলন নেই
পদে পদে অনুযোগ
চূর্ণ মায়া, গেরস্তালি পড়ে থাকে তোর
ভাতগুলো গিলতে থাকে কায়া
অসীম মায়া
কবিতার ঘরে আমার বসবাস
নিরন্তর ঘাম ঝরে
মলম হাতের কাছেই রাখি
উপায় নেই তাকে কীভাবে হাতছাড়া করি
ফুটতে থাকে অন্ন,তারই সুগন্ধ
এসো,এসো বসো আহারে
আহারে! আহারে মরে যাই
তোমার রূপে
সিন্দুকে ধরে রাখি বর্ণ অক্ষর বাক্য নির্মাণ
কবিতা সচরাচর হয়ে ওঠে না।
বৃথাই আস্ফালন তোর, গর্জন সার।
কবিতা লেখা কি মুখের কথা!

আলপথে হেঁটে যাই
লাঙলগুলো নড়ছে
ট্র‍্যাকটর চলে সবখানে
কাল যা ছিল আজ নেই
ইতিহাস সবখানে
ঘাপটি মেরে আছে শুনশান বেলা
জ্যোৎস্নায় পথ চলা
চাঁদ সবার সঙ্গে থাকে
অঙ্গাঙ্গিভাবে সমাদৃত নিয়তি বাহবা দেয়
তোমার সঙ্গে আমার দেখা
একটি জীবনে সাঙ্গ হয়না আখ্যান লেখা
কলকব্জায় জং ধরে
সামলে রেখো পরাণটা
একটি দু'টি ফুল ফোটে
ভোরের দিকে দোর খুলি
সঙ্গোপনে উঠোনকোণে লুটিয়ে পড়ে বাসি ফুল।

Thursday, 15 November 2018

ছায়াবৃক্ষ / স্মৃতি পাল নাথ 🌺🏵🌿🌾🌿🍁🌱

মোহরগুলো গুনে দেখে ধূর্ত সময়
সেই তখন, মধুরতা বলে কিছু কি হয়?
মাথা তুলে দাঁড়াতে গিয়ে
তারামণ্ডল জৌলুষ দেখায়
তারাগুলো সব... 
উল্কাপিণ্ড খসে পড়ে
মুখোশ পরে প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব
প্রতিধ্বনি শোনা যায়
ছায়াগাছ নড়ে ওঠে দুপুর রাতে
গাছগাছালির সবুজ যত নড়তে থাকে
রূপকথা হেঁটে যায়

নির্জন পথে ব্রহ্মদত্যি হানা দেয়
ইঁদুরের চলাফেরা বাড়তে থাকে
উপকথার জন্ম হয়
দু'একটি ফুল ফুটতেই
পাতাভরা গাছগুলি ডাকতে থাকে
                              আমায় দেখে
চুঁয়ে পড়ে আলো।
উঠোন জুড়ে ফুটে থাকে
অতসী, জবা
দুলতে থাকে অপরাজিতালতা
বেড়ার গায়ে নীল,সাদা রং দেখায় ভালো
আমার দুপুর,আমার সন্ধ্যা
আমার প্রাতঃবেলা
            হারায় নাকো

Saturday, 3 November 2018

জাদুলন্ঠন / স্মৃতি পাল নাথ 🚣🚣🔔🌧🕧 🌿🌿🌿

ঈশ্বর, সজারুর কাঁটা গায়ে
আর কত দিন আত্মরক্ষায়
অক্ষত রাখব নিজেদের
যন্ত্রণার ছুরি ঝলসে ওঠে
ব্যথা,বিষম ব্যথা সত্যকে ছুঁয়ে দেখে।

মৌচাক সুরক্ষিত রয়েছে দেখে সৃষ্টিছাড়া উল্লাস
গুমোট ঘরে হৃদপিণ্ড ধুকপুক করছে
এক অনুভূতি আউল বাউল ছন্দ তুলে বিষম খায়
এলেবেলে ভাবনার সঙ্গে ঘুরি ফিরি
কুপোকাৎ উদ্বেগকে দেখি উৎকন্ঠায় নাচে
বনজ্যোস্নায় মিশে থাকে চোরাঘুর্ণি মন
ষড়যন্ত্র সেরে কেচ্ছাগুলি কিলবিল করে
উঁইঢিবি বাল্মীকি হয়েছে
দস্যু তার কথা ভুলে গেছে

প্রসাধনলিপ্ত মুখগুলি
ঘুরে ঘুরে দু'হাতে
বৃষ্টির ফোঁটা ধরে এক কিশোরী
মেঘছেঁড়া হাসি তার সর্বাঙ্গে দ্যুতি
লুপ্ত সভ্যতায় ফেরে কিছু যুবক
আজ প্রাচীন বৃক্ষকে কুর্নিশ করে ।

তোমাদের কথা সাঙ্গ হলে এদিকে এসো
দীর্ঘতর এক প্রতীক্ষায়
অন্যমনস্ক মানুষটি পাশ ফেরে
উল্কাপাত হয়ে গেল
সিন্দুকে জমে আছে ----
ক্ষোভ,তিরস্কার, ঘৃণা ও দলবাজি
স্কুলের ঘন্টা কি বাজল? 
পাঠশালার দিনগুলি অদ্ভুতেড়ে গল্প শোনায়
চিঠি বিলি করে যে ছেলেটি আজ প্রৌঢ় হয়ে গেল
তার ঝোলায় অযুত কবিতা লক্ষ কোটি ভালবাসা
দীর্ঘশ্বাসের মতো ঝকমকিয়ে ওঠে
ভালবাসার মুখগুলি উঁকিঝুকি দিতে শুরু করে 
ফুলকি যেন। 
আনাগোনা করে ছদ্মবেশী সার্কাসের লোক
ট্রাপিজের খেলা দেখায়
উন্মাদের ঘর থেকে যুক্তি ভেসে আসে
যে ভাষায় লিখি নাকো ছেঁদোকথা হয়
রূপকথারা উক্তি করতে ভালবাসে
প্রস্তরযুগের দুয়ার খুলে
চকমকি পাথর দেখায় এক কবি
সুর বয়ে নিয়ে আসে বৃহন্নলা সময়
বড় একাকী আজ
দুঃসময় গেঁঢ়েছে ঘাঁটি
ছাইভস্ম লিখি
টের পাই বৃষ্টি হচ্ছে খুব ধীরে
মেঘগুলি উবে যাচ্ছে
সরযূ নদীর তীরে
রামায়ণকথা উত্থানপতনে মেশে
পথরেখা জুড়ে থাকে ঈশ্বরের পদধ্বনি
শিল্পের ইতিহাস বিবর্তন ধরে এগোয়
খবরের কাগজ দেখো, কে জ্বালে অস্মিতা
সিন্দুক ঘরের চাবি তার কাছে রাখা
পত পত করে পতাকা
প্রেতচ্ছায়া লিখে রাখে মোমবাতির আত্মকথা
শান্তিটুকুই যাকিছু বাকি নিয়ে যেও না।
অগ্নিগর্ভ জনপদ
বিস্তৃত হতে থাকে ক্রন্দন
তাকে ভুলে যেও না
শিশুর কলরব ধেয়ে আসে
মৃতসন্তানের মা আছাড়ি পিছাড়ি কাঁদে
কী করে সান্ত্বনা দেবে তাকে
কোন মহাকবি দ্বিধাদ্বন্দ ভুলে
লিখতে পারবে এসময় ভালবাসার গূঢ় কাহিনি
রোষাগ্নি জ্বলে,
বৃন্তচ্যুত হওয়ার ভয়ে ঘুরতে থাকে
লাটিমের মত অবিবেচনা
চলতে থাকে রুদ্ধশ্বাস নাটক
জাপটে ধরে অগ্নিশিখা
দুহাতে ছড়াই রোদের ধারা
বালুচর পলিজমি রাজ-রাজড়ার ভবন
সবই তো তাসের ঘর
একটু নড়ছে পাথর বন্ধ গুহার
খসে পড়ে ঝুরঝুরে মাটি
চলকে ওঠে মন খারাপের এক চিলতে নদী
যাত্রী ওঠে যাত্রী নামে
নদীর ঢেউ চলতে থাকে
উদ্বল নদী ডাকে
ঢেউ খেলে যায়
অপাপবিদ্ধ রইব কোথায়? 

পাখনা গজায়
পতঙ্গ সব উল্লাস করে
স্ফুলিঙ্গ দেখে, উড়ন্ত তারকা
বিষের দাগ,
উদাসী হাওয়া ভাসিয়ে নেয় গুনগুন সুর
কাছাকাছি চাঁদ আটকে থাকে
একটি ডিঙা ভেসে ওঠে
কপাটখোলা মন খারাপের
মনের ভেতর একলা আকাশ একলা আকাশ
উল্কামালা
মারকাটারি ভঙ্গি তার
পায়রাগুলি সুরধ্বনি তোলে
                      বকবকম
ছিপনৌকায় মাছধরা জাল
হাঙর আর কুমিরগুলো তেজ দেখায়
মনুষ্যত্ব লোপাট হয়
তাণ্ডবের  নাচন,
আগুনের গন্ধ
জ্ঞানগম্যি নাই।
পা ছড়িয়ে কাঁদতে যাই
ছিন্নমূল পরিচয়,
জাদুলন্ঠন লাফিয়ে আসে
বিপন্নতায় ভয় খাওয়া মুখে ছুটতে থাকে
দশ গেরামের লোকজন...

অন্ধকূপ / স্মৃতি পাল নাথ

লাশ পড়ছে, লাশ
কোথায় ঘর, কোথায় বাড়ি
মাত্র সাড়ে তিন হাত জমি

বিবেক তুমি কার?
এত নরসংহার
বিধাতা দৌড়ে পালায়

আজ পাঁচ, কাল হবে পনেরো,ক্রমান্বয়ে হাজার
কার লাশ কীভাবে পড়বে কেউ কি জানে
গর্জে ওঠো, ধমকে ওঠো, সামালকে ভাই

আকাশ কাঁদে, বাতাস কাঁদে
            বাংলার ফল কাঁপে
                        ফুল কাঁপে
         কোথায় লুকোবে ভাই?

Thursday, 1 November 2018

নদী ও ছায়াপথ / স্মৃতি পাল নাথ 🌱🌿🍁🐟🐠🌧🏵🌾🍁🌷

একা একা পথ হেঁটে
আমার ভেতরে তৈরি হয়ে গেছে
     এক আশ্চর্য্য সৈনিক
কুচকাওয়াজের শব্দে ঘুম ভাঙে
বাতাস কাছে এসে ফিসফিস করে
তোর ঘোড়াটা কোথায়? 
সহিস আমি নিজেই
স্বপ্নলোকে পাড়ি দিই
ভুল করে উড়তে থাকে ধুলোবালি
গ্রীষ্মে রোদদিনে আওয়াজ শুনি
       এক মুগ্ধ বালিকার
শৈশবের ঘোড়সওয়ার
আজ হেঁটে হেঁটে
নদীর কাছে যায়
পলি মাটি বালুচর দেখে
নদীর ভাঙনকে ভুলে যায়
গান হয়ে ভাসে ঘরদোর
জলের বারতা নেই
নদী এসে ওঠে ঘরে
তাকে কি বলবে বলো? 
সর্বাঙ্গে পাতামোড়া গাছটি
দগ্ধদিনের ভয়ে জড়োসড়ো
শ্যাওলা গজায় শানবাঁধানো পুকুরঘাটে
নদী অসম্ভব শান্ত স্বরে ঘরময় হাঁটে
তার পায়চারি ভালোবাসার সঙ্গে
নিশ্চুপে ঢুকে যায়
মনের ভেতর স্বপ্ন দেখায়
নদীটির নাম জল্পনা-কল্পনা।
পরখ করি তার কন্ঠস্বর
পায়ে বেঁধে দিই নুপুর
কানে কলকব্জার মত দু'টি দুল
সবই মানায় তাকে
বাঁধনছেঁড়া যাকে পেয়েছি কাছে
বাজপাখিরা ওৎ পেতে রয়েছে দেখে
সতর্ক হয়ে যায় নদীটির বেগ
দুরূহ স্বপ্ন ওম দেয় বুকের কাছে
যেভাবে তাকে রাখি বিবর্ণ হতে চায়না সে
হাত বাড়িয়েও তার নাগাল পাই না
তবু বুঝতে পারি
অমোঘ এক নদী পায়ে পায়ে পা মেলায়
আসলে উচ্চাকাঙ্ক্ষা
স্বপ্ন বলে তাকে গণনা করি
হিম্মত দেয় সে বড়ো।
প্রায়ই আমাকে বলে, যাবি আমার সঙ্গে?

আত্মনির্ভরতা আমাকে প্রশ্রয় দেয়
সমুন্নত শিরে মুকুট পরায়
সৌভাগ্যের মতো রোদ
উঠেছে আজ ভালবাসার  চত্বরে
আমি ছাই তার কি জানি
অন্ধকার ধুয়ে ফেলতে পারি
আলো নেই?
চাঁদ হয়ে যায় গোপন কাণ্ডারি
চাঁদের বুকে জমেছে মেঘ বিষণ্ণ কৌতুকে
কাছাকাছি চলে আসে এক ময়ূরী
পেখম মেলে একা একা পথ হেঁটে
ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে মেপে দেখে লক্ষ মানুষ
দিকে দিকে অরণ্য হারায় নিমেষে
সবুজের হাততালি গরিমা হয়ে মেশে
তার সঙ্গে নেই আড়ি।

হর্ষধ্বনি দিতে দিতে কারা যায়
বনভোজনে
দিব্যকাল এগিয়ে আসে
হাহাকার কোন দিকে? 
পাহাড়,ঝর্না, বৃক্ষরাজি
জঙ্গলজুড়ে সূর্যের আলো
নদী একটি বইতে থাকে
অরণ্য হাসে।
অধ্যাবসায় ছিঁড়েখুঁড়ে পাল্টি খায় ভবিষ্যৎ
আর্তনাদে পথ ভেসে যায়
বিবেকঘরে ধুলোবালি জমতে থাকে,কেমন আছো?
নীলবিষ,
সৌভাগ্যের মাঝে চুপটি করে বসে থাকে
চাঁদবুড়ি জ্যোৎস্না নেভায়
যখন তখন ছায়াপথ খুব কাছে চলে আসে
বাবার কথা মনে পড়ে
দুপুররাতে আকাশেতে
ছায়াপথ চিনিয়েছিলেন বাবা
আমি পথ হারাইনি গো।

ছদ্মবেশে / স্মৃতি পাল নাথ

প্রতিধ্বনির মত কিছু কথা ভাবায় ফুটে থাকে চিন্তার অলিন্দে রং হয়ে ওড়ে বসন্ত বাতাসে কিছু কাঁচপোকা ঘুরে পৌষের মাঠে খড়ের গন্ধ লেগে থাকে হেমন্...