Sunday, 2 June 2013

বাংলার সম্বল


        স্মৃতি পাল নাথ

সততার প্রতি সম্ভ্রমজ্ঞানে চোরাকুঠুরির মধ্যে আমাদের ঘড়ি
নবান্ন পরিপূর্ণ আমাদের শূন্য গোলার মধ্যে
কচুপাতায় জল দেখে সংসার
ভালবাসার গোপন প্রণালী দেখে । বুনো মৌমাছি
পিঁপড়ের মতো পাখা উঠছে
সবাই কেমন জানি হয়ে যাচ্ছে বামন
ধানমাড়াইয়ের শব্দে অপেক্ষা করছে শূন্য গোলা
পায়ের তলায় ঘাস গজাতে দেয় না
আমার পায়ের তলায় সর্ষে
দুর্বলতাগুলো দম্ভ ছড়ায় । ভেতরে ভেতরে কত পথ একলা হেঁটেছি
ঝর্ণাগুলো রয়ে গেছে আমার মতো যেসব মানুষের ভেতর
সেখানে রয়েছে স্বপ্ন
মানুষের মন ঘুড়ি ওড়ায়, গন্ধ ছড়ায় ।
পাকা ধানের খেত শরীরে ছেয়ে আছে
শাপলা শালুকগুলি ফুটে আছে
ভালোবাসা গৃহস্থের পাখি
বিশ্বাসের ঘরে শূন্য হাত পাতি
তৈরী হয়েছে এক পাঠাগার নিজের ভেতরই
উড়ে উড়ে খিড়কিতে বসে পাখি
মাতৃভাষা শুধুমাত্র মুখের ভাষা হয়ে যাচ্ছে
স্মার্ট ইংরেজি পড়ুয়ারা হেঁটে যাচ্ছে
লৌকিকভাবে বাংলা ঘুড়ির মতো
কিছু স্বপ্নপ্রবণ কিশোরের হাতে ।
কীরকম কষ্ট বুকের ভেতর থৈ থৈ করছে বিলগুলি হংসমিথুন
সাঁতরে চলে । অপেক্ষা করে আছে মরুভূমি
বালু ভেঙে ভেঙে হেঁটে যাচ্ছে নারী
কাঁধে লাঙল তুলে এগিয়ে আসছে
বাংলার চাষি
পরিব্রাজকের অঙ্গে গৈরিক ধুলো
স্বদেশের ধুলো ছেয়ে আছে বিপ্লবীর শরীরে
স্বদেশের সীমা পেরিয়ে কবি এগিয়ে যাচ্ছে
হাতে বর্ণমালা । কবিতার বিস্তৃত মাঠ অপেক্ষা করে আছে
মাতৃভাষার শরীরে পাকা ধানের গন্ধ ।







প্রথম কদমফুল


    স্মৃতি পাল নাথ

গান হই না কেন ?
গান হই না কেন ,প্রথম কদম ফুল ?
আমার চোখের ভেতর হরিণ,মনের ভেতর ময়ূর
শব্দের ভেতর যে শুনশান মাঠ, নদী, নৌকা,গাছপালা,পায়ে চলার পথ
দূর ছায়াপথ,শস্যক্ষেত্র,অরণ্য,প্রান্তর
আমার শব্দের ভেতর বাবুইপাখি,আমি খড়কুটো
ফসলের গন্ধে দিগ্বিদিক স্বজনেরা,আমার আলজিভে ঘা
মেঘ ও বিদ্যুতে ছেয়ে আছে দূর ছায়াপথ
মেঘেরা করে কানাকানি
একফোঁটা বৃষ্টির জল হাতে দাও আমায়।
জানো,স্বপ্ন দু’ঠোঁট উল্টে অভিমান করে
জীবন্ত শিলায় আমার রাস্তাগুলো যে বদলে দিয়েছে
আমার রাস্তাগুলো দিয়ে আমি হেঁটে যাই
গুপ্তশত্রুরা যেমন লুকিয়ে থাকে
কিছু জোছনা,কিছু রোদ সব সময়ই মানুষের সঙ্গে থাকে
নিজের মধ্যে থেকে বেরিয়ে যাবার রাস্তা ।
যে সংসার বেশ্যার গলি
ভেঙে দাও প্রথা
বরবউ,জঙ্গলে ভ্রূণ
ছিঃ। জানো, ছিঃ বলতে নেই ।
বৃষ্টি হইনা কেন ?
পৃথিবীর প্রথম আগুন এই বক্ষে
তোমার গান
ভিখিরিদের শিতের উত্তাপ হয় না কেন ?
গাছ দেখলেই চিনে নিতে পারি
আমার সূক্ষ্ম ফুলগুলি কাঁপে
কারও কারও সঙ্গে কথা বললে কেমন পাথর লাগে
আমার নাম না জানা ঝর্নারা ছটফট করে,অসংখ্য নদীর জন্ম হয়
আমি ডুমুরগাছ চিনি,ডুমুরফুল চিনি ।



আলজিভ ও পুষ্পশর



          স্মৃতি পাল নাথ

আমার আলজিভটি হারিয়ে ফেলেছি
ঝড়গুলো তার শরীর খুলে খুলে দেখায়
সমভ্রমজ্ঞানে আমি মাথা চুলকাই
কিছু জ্যোৎস্না সূর্যকে দেখে হাসে
হাতে ধরা এই পুষ্পশর
আমাকে শিখিয়ে দাও
ধনুকের ছিলার মত তীর যোজনা
ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে গাছ
যত ফল পেকে উঠেছে
ভুলমাটিতেও ফসল ফলে
বৃষ্টির মত পবিত্র সংগঠিত হয় কিছু লোক
গাছে থাকে সাধ্যমত সবুজ,ফুল,ফলপাকুড় ।
হংসেরা করে জলকেলি
জলের মধ্যে মাছের মত বেঁচে উঠছি আমি
আর সাঁতার দিয়ে খাদ্যের সংস্থান করি
মানুষের জীবন যাকে করুণা করে ।
তোমার প্রতিবেশি যে তার সীমানার চারপাশে
সুদীর্ঘ প্রাচীর তুলে দিয়েছে
তারও বিছানায় আছে ছারপোকা ।
তাস বেটে দিচ্ছে লালসা
ফাঁক-ফোকর দিয়ে তাকিয়ে থাকে ভালোবাসা
অগণ্য মানুষের মত
আমি তো ধুলোর তলায় বিকশিত
যেন আমার ঘুড়ি
তোমার মাঞ্জা দেওয়া সুতোয় ওড়ে
উজ্জ্বল সাফল্য যখন চোখের সামনে দাঁড়িয়ে
বাহবা কুড়ুতে থাকে
আমাদের প্রত্যেকের গোপনঘড়ি
চুপিচুপি তা লক্ষ্য করে ।



মায়ামহল



         স্মৃতি পাল নাথ
দামামা নয়, বাঁশি – বাঁশি বাজুক তমাল বনে তোর
প্রতিটি দিন বৈষ্ণব পদাবলী
রূপ, রস, বর্ণ গন্ধে বিভোর
বাড়ির কাছেই আরশিনগর
আমাদের দেখা হয় নাই কিছুই
প্রেম,এছাড়া তোমাকে দেওয়ার মত
আমার যে আর কোনও দানপত্র নেই ।

দাবিদাওয়াশূন্য ভালোবাসায় দর্পণে বিবিধ খসড়া
চারিদিকে ভ্রামরী মিত্রতা, মায়ামহল, নদী নারী ও বিষ
ফুল দেখে বৃক্ষ চমকায়
মানবসভ্যতা সাজায় মঙ্গলঘট, ভূর্জপত্রে কৃপাণ, নীলকমল
মহাকাল আড়চোখে চায়, সুর ছন্দ ও তাল
ত্রিনয়ন থেকে আলো চুইয়ে পড়ে প্রতিদিন
পরমান্ন জোটে । আহরণে দিন যায় অন্নপূর্ণা

রোদ, জল, বৃষ্টির অন্বয়ে বেঁচে থেকো ভালবাসা
বেঁচে থেকো বাবুইপাখি, তালগাছ । ঝড়ের অহমিকা
মনসামঙ্গল তরঙ্গে সর্বংসহা ভালবাসা
তোমার জন্যই মেঘ হই, হই বৃষ্টি, চর্যাগান
         হংসবলাকা,
ছন্দে বিভোর । সর্বস্বান্ত চাঁদ
    জীবনপাত্র যায় উচ্ছলিয়া
         সেলাম, তোমারে সেলাম ।  

গোপন ঘড়ি


         স্মৃতি পাল নাথ

স্বপ্নগুলো যুঁইফুলের গন্ধ ছড়াচ্ছে
জঠরের ভেতরে একটা নতুন দেশে সূর্য গান করে ওঠে
চোরা কুঠুরির মধ্যে আমার ঘড়ি
আমার দিকে তাকিয়ে আছে
তাকিয়ে আছে নিজেদের মধ্যে যে নির্বাসন
বুদবুদ তুলে একটি উষ্ণ প্রস্রবন
দেশটা জোনাকিতে ভরে গেছে
আমার দিকে আঙুল উঁচিয়ে দেখায় কারা
তাদের ছায়া আমি দেখতে পাই না
সময় তোমার কাঁধের উপর রেখেছে হাত
আঃ যা নাম আলো করে দেবে !
আমার সামর্থ্যের চেয়ে বেশি হেঁটে যাই আমি
হাঁপাতে থাকি একটি বিস্তীর্ণ শস্যক্ষেত্রে
কিছু গুরুত্বপূর্ণ শুনব বলেই আমার এই এতদূর হেঁটে আসা
কথকঠাকুর,টেবিলে সাজানো সুস্বাদু সব খাবার তোমার জন্য ।
কোনও কোনও মানুষের দারিদ্রের প্রতি ভীষণ ঘৃণা
আমার ভাঙাচোরা শরীর তেজ দেখায়
কীভাবে তারা দৌড়োয় লক্ষ্য করি আমি
একে তাকে ধরে আলোর বাল্ব জ্বলছে কারও ঘাড়ে
ল্যাম্পপোস্টের মত দিনরাত এক করে
লড়াই চলছে সামাজিক প্রতিষ্ঠার জন্য
নিজের ছায়াকে ভয় পাচ্ছে মানুষ
তাকে চিনতে ভুল হচ্ছে
মনে হচ্ছে কোনও দিন ত দেখিনি
যে থুথু ছিটোয় তোমার গায়ে
যেখানে স্বপ্নের হাত-পা নেই,গাছপাথর শূন্য
যেখানে মানুষ আছাড় খায় বর্ণমালাসমেত
গ্রাম্য ভ্রমগুলি মুখ বাঁকায়
নিজের ভেতর খুলে বেরিয়ে আসি আমি
স্বপ্ন আর লাঞ্ছনা ছাড়া এটা সম্ভবই হতো না ।



ছদ্মবেশে / স্মৃতি পাল নাথ

প্রতিধ্বনির মত কিছু কথা ভাবায় ফুটে থাকে চিন্তার অলিন্দে রং হয়ে ওড়ে বসন্ত বাতাসে কিছু কাঁচপোকা ঘুরে পৌষের মাঠে খড়ের গন্ধ লেগে থাকে হেমন্...