Wednesday, 31 October 2018

সঙ্গীতধ্বনি, একা একা / স্মৃতি পাল নাথ🌷🏵🍁🌾🌱🌷🌿🌼🌻🌹🌺🐚🐟

চোরাস্রোতে পথ ভুলি
উদাত্ত এই হৃদয়েতে
মুক্তোজন্ম সফল করে 
সমুদ্রপারে ঝিনুকগুলি
উপচে পড়ে
গলদা চিংড়ি হেসে কুটি
গোলাপগুলো ঝাঁপ দেয়
সংসারেতে জব্দ হয়
আত্মতুষ্টি বিষমভার
ভুঁইচাঁপা এলে পরে
আগুন যেন উপচে পড়ে
সবখানেতে অবাধ্যতা
ঝড় বৃষ্টি মাঠে ঘাটে
মেঘ তবু ছেয়ে যায়
উত্তাপ দেখায় ভালবাসা

ভাঙ্গাচোরা সময় থমকে
রণাঙ্গনে একা একা 
ঘোড়াগুলি ইঙ্গিত করে
স্বপ্নগুলো মুখ ভ্যাংচায়
ভবিতব্য কপাল কুঁচকে স্যালুট দেখায়
শ্বাপদেরা ভুল করে কেন
       ঢুকে পড়ে বাড়িঘরে
দূরদেশে যাই ঘোড়া হাঁকায়, এদিকে আয়
যাচ্ছিস কোথায় অজ্ঞাতবাসে?
বৃষ্টি নিয়ে তুফান নিয়ে ধুলোবালি সঙ্গ করে     
স্বপ্নঘরে ঢুকে পড়ি
দিব্যআলো ঝলকে পড়ে।
তোমার মুখে স্বস্তির বিভা
যেন বাতিঘর আলো জ্বালে। সমুদ্রেতে ঝাঁপাই স্রোতগুলো সব তরঙ্গ হয়ে দুলতে থাকে
পেছন ফিরে তাকাই যখন সব্বনেশে আবির উড়ে
রঙে রঙে নাকাল হয়ে 
তোমায় আমি দেখতে পেয়ে কেবল পালাই,
বিপন্নতায় পথ ঢেকে যায়
সবুজ রঙে জেগে ওঠে গাছপালা।
ফুলগুলি ফুটতে থাকে নিঝুম রাতে
বজ্রপাতে সময় কাটে
ভিক্ষাভাণ্ড নিয়ে ফিরি স্মৃতিঘরে
ভালোবাসা ছি ছি করে
ধ্যান জ্ঞানে লক্ষ তারা ফোটে
রেগে ওঠে প্রত্যাশার শস্যক্ষেত
নীতিকথা ভাল্লাগেনা
ছায়াটাকে কেবল তাড়াই
চিন্তা চেতনায় কেবল মায়া
বাতাসেতে ভারসাম্য হারাই
তরী এক ভাসতে থাকে
সাধ্য নেই তাতে চাপি
সুধাভরা জীবনপাত্র উল্টে দেখি
অবহেলা
ভুল করে তাতে লাফায় প্রণয়গাথা
দূরে আছো দেখতে পাই
উপেক্ষার সমতূল্য কিছু নাই
হইচইয়ে দিন কেটে যায়
হুলুস্থুল
সঙ্গীতধ্বনি, একা একা
আষ্টেপৃষ্ঠে লজ্জা নিয়ে তোমায় দেখি
পাখিগুলো গাইতে থাকে
উল্টেপাল্টে পড়ি খানাখন্দ
নারীবাদী পথ কাঁপে
সন্তানেরা আঁচলেতে লুকিয়ে থাকে
তন্দ্রাচ্ছন্ন প্রহরগুলো বনবাদাড়ে হাঁটতে থাকে
ঝুপড়ি ঘরে বাস করে কবিতাগুলো ভীষণ নাচে
ব্রাত্যদিন ঝুলে থাকে বারুদসময় উল্লাস দেখায় ছিনতাই অযুত আশা
বাউণ্ডুলে উচ্চাকাঙ্ক্ষা
গেরুয়া পথে
ধুলোয় মাখা
একতারাটি সুরে হাসে...

Sunday, 28 October 2018

ভাষা শহিদের দেশে নিভৃত নীলপদ্ম/স্মৃতি পাল নাথ

ভাষা শহিদের দেশে নিভৃত নীলপদ্ম  / স্মৃতি পাল নাথ  

মানুষের ঘামে ভেজা ক্ষেত, মাটির দিকে তাকাও

ফসলের শীর্ষেও জল্লাদের হাত 
ভিমরুলের চাক ভাঙা
পৃথিবীটা ছদ্দবেশী প্রাগৈতিহাসিক অর্ধমানবের রণক্ষেত্র
শিকড়ে বাকড়ে আটপৌরে সঙ্কেত পাঠায় কেউ
স্থাপত্য ভাস্কর্য শিল্প চিত্রকলা নিরবচ্ছিন্ন আব্রু ধরে রাখে
নীরবে কান পেতে আছে ইতিহাস চেতনা
ভালবাসা দু’বাহুতে জড়ায় আলো জল বাতাস
ছদ্দবেশে কে গো ? মুত্থরমুত্থ চৈতন্য গড়ায়
অনিঃশেষ চলা । খেয়াঘাট, তরী ভেসে আছে
কীর্তন, বিভাস, বসন্ত, ঘাটু , বাউল, সুহিনী, মিশ্রখাম্বাজ
রাগিণী ও তাল
নক্সীকাঁথা বুনছে রাজা
লুটোপুটি খায় তরুপের তাস
রৌদ্রছায়া, পলাশ শিমূল গোলাপ কৃষ্ণচূড়া ফুটছে আরশিনগর
বর্ণমালার মেঘ জল পবনকথা শুনে
আয়ুষ্মান উনিশের গান গায় শহিদের দেশ
অমোঘ, ধুলবালি,দহন,খননের স্পৃহা
তপনতাপে জেগে ওঠে শ্মশান
শহিদ মিনারে মানুষের ঢল
সূর্যের গান গাওয়া । সম্মোহনে মায়ারূপী দিব্যজ্যোতি আগুন
আগুনে কী নেই ?
   
গাই ভাষাশহিদের জয় গান 
ধ্বনি শুনলেই খুঁজে পাই বর্ণমালা । শব্দের স্নায়ু দেয়ে যায় কবিতার ডাকহরকরা । পৃথিবীর জন তেপান্তরে মানুষ কেন আছাড় খায় বর্ণমালাসমেত । এই বর্ণমালা- অগণিত মানুষের । এবং মানুষের মনুষ্যত্বের যাবতীয় পুঁজি । ভাষার প্রশ্নে সুগন্ধী গোলাপ ও জলন্ত মশাল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া । প্রেমিক ও প্রতিবাদীর ভূমিকায় অন্তর্নিহিত ভাষা, অনুশীলন ও অর্জনের দৃপ্ত সংস্কারে । বরাক উপত্যকার
ভাষাশহিদের স্মৃতিতে মাতৃভাষার পতাকা হাতে যারা এগিয়ে চলেছি, আমাদের বিশ্বাস, একদিন নবপুরাণ লেখা হবেই । আমাদের রয়েছে অখণ্ড, অবিভাজ্য এক সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার । প্রণাম ভাষা-জননীরে । গাই ভাষাশহিদের গান । জয়গান । আমরা সবাই জানি, ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না । 

আত্মপরিচয়ের বর্ণমালা
কেন কেবলই ভয়, অনিশ্চয়তা
স্বদেশের মানচিত্রে এ কোন বিপন্ন ভূগোল
এখানে ওঠে প্রতিদিন নতুন সূর্য
অন্তর্গত চেতনায় ভাষা শহিদের দেশে
ফুলেরাও কাঁদে, জ্বলে ওঠে কবিতা
বঙ্কিম,রবীন্দ্রনাথ,নজরুল, জসিম, জীবনানন্দের ভাষা
শরবিদ্ধ বর্ণমালা । মেঘমালা, এ আলোর লন্ঠন 
হাজার হাজার তার আয়ুষ্কাল, অগণিত কর্মশালা
উনিশে মে সুরমা বরাকের জারি জারি ভাটিয়ালি
চড়কের লোককথা । হাতে হাতে জ্বলছে মশাল
মায়ের বুকে বহ্নিমান সন্তানের চিতা
যুদ্ধে আর রক্তের নিষেধের বেড়াজাল ভেঙে
ভেসে যায় অমর উনিশের ভেলা
    অশ্রু আর আগুনের সহজপাঠ
কোথায় কোথায় বাঁক নেবে
     আর কত লোকক্ষয়
মায়ের তপ্ত বুকে গড়িয়ে পড়ে 
    বর্ণমালার অশ্রুজল
আত্মপরিচয় ।

নব পুরাণ কথা
একটা দেশের মানুষ ভাষার জন্য কাঁদে
গুন গুন সারে পাগলা ভ্রমর
এখানে বকুলের মালা নেই
পদ্মাপুরাণ পড়ে লৌকিক পৃথিবী
লৌহবাসর হাসে অট্টহাস্য
টুটা ফাটা মানুষ জাগরণ চায়, যুদ্ধ নয়
মাতৃভাষায় কথা বলে পৃথিবী।
যেসব গান প্রত্যেক মানুষের বুকে থাকে
যে পংক্তিগুলি নাম আলো করে দেবে
নিবিড় করে জন্ম নেয় নতুন দিনগুলি
স্বপ্ন-ভ্রূণ, সরোবরে পদ্ম, ভ্রমর । প্রত্ন-তত্ত্বচিহ্ন
পবিত্র মেঘ, ভাঙা মানুষ,
চাঁদ ওঠে না । দুয়ার ভরা কোলাহল
কদমফুল ফুটে রয়েছে । 

পৃথিবীর মাতৃভাষা 
পদাতিকের ধুলি অঙ্গে এগিয়ে যায় মিছিল
শহিদ তোমরা অমর রহো...
মহামানবের আত্মবলিদান বৃথা যায় না ... ...
ধ্বনিত হয়
         জান দেব, তবু জবান দেব না
মাতৃভাষা জিন্দাবাদ
         মিছিল মিছিল মিছিলের ধুলো
ভাষার জন্য একটি উপত্যকা কাঁদে
ভালবাসার জন্য
বরাক কুশিয়ারা বুড়িগঙ্গা
            কাঁদে ভীষণভাবে
কাঁদে বঙ্গভূমি, জননী জাহ্নবী 
         কাঁদে শস্যশ্যামলা বসুন্ধরা
সুরমা কুশিয়ারা মিশে যায় বঙ্গোপসাগরে
          গঙ্গা ছুটে চলেছে
বরাকে ধামাইল চড়কের নাচ
জারি সারি ভাটিয়ালি উনিশে মে-র আত্মগাথা জলের বুকে
১৯শে মে নদীর মধুর চলা 
       ঝরণা যেমন গান গায়
জেলেদের ডিঙ্গি নৌকা
      গুনগুন করে গান গাওয়া
                  বর্ণমালা 
মাতৃভাষার গান 
১৯শে মে, ২১শে জুলাইর আত্মকথায়
                 উপকথা বলছে পৃথিবী
শিউলিফুলে ভরে আছে গাছতলা
          ফুল কুড়ায় গুন গুন স্বরে মানুশেরা, জন্মে শালুক
বিলে শাপলাশালুক আর সূর্য ওঠা দেখো
যেন গঙ্গোত্রী থেকে আরও দূরে
         গঙ্গার উৎস এক আশ্চর্য হিমবাহ
গোমুখ, এখানে থাকা যায় না 
তুষারশৃঙ্গগুলি থেকে গড়িয়ে পড়ছে সঙ্গীত
নিরুদ্দেশে আলোর আভাস
চাঁদের আলোয় পথ ফুরোয় না
মাতৃভাষার বন্দনায় পদাবলীর মত
বিলজুড়ে ফুটে আছে অসংখ্য পদ্ম
       অপূর্ব রূপ গন্ধ
এর পাশে সূর্যোদয় সবচেয়ে সুন্দর !
সূর্য না ওঠা পর্যন্ত রঙের এই হোলি খেলা
এ দিনও না রাতও না
        দিন রাত্তিরের মোহনা
বিলে পদ্মফুল আর সূর্য ওঠা দেখো
        পৃথিবীর মাতৃভাষা
জ্যোৎস্না ধুইয়ে যায় সারা উপত্যকা
ফুলেরাও তাই তোমাকে ভালবাসে
নদীরা বড় কাঁদে
শহিদ মায়ের মত
সমুদ্রের মত নিজস্ব গান
          নদীর মত গান
অন্তর্গত ভাষায় আগুনের সহজপাঠে
সুলুকসন্ধান জানে যে
জানে বরাভয় কাকে বলে
নবতর জন্মের খোঁজে
যে লেখে ভাষার পদাবলী
যাদের ভেতরে অন্য স্রোত, অন্য গতিপথ
অঙ্গীকারের আলো জ্বালায় কারা
বাতাসে কীসের আহ্বান
সমুদ্রে জেগে থাকে যেভাবে বাতিঘর
এ নদীর চলা মোহনায়
জল ঠিক পথ খুঁজে নেয়
ওই সাগরের নীল... ...
ভেসে আসে সাগরের গান
   চারনেরা ধরেছে গান
বরাকের বুকে ভাটিয়ালি গান, রক্তলেখা
          প্রাগৈতিহাসিক যুগের উপকথা
বাংলা ভাষা জিন্দাবাদ । জিন্দাবাদ
এ কোন বরাক ? ভাষা শহিদের গাও জয়গান
মাতৃভাষার বন্দনায় হেঁটে যায় পৃথিবী
সজারুর মত বেঁচে থাকে কবিরা
দু’হাত তুলে সামনে দাঁড়াও
জানায়, নিয়তির মত জল্লাদ
নদীতে বহমান স্রোত । ভাগ্যবিধাতা কারা ?
কোথাও রয়েছে ক্ষমা, ললিত কুঠুরি
স্বজনের ভালভাসাহীনতার পাপ
স্তোকবাক্য ।
সহজপাঠে এভাবেই সফলতা ব্যর্থতার কাঁধে মাথা রাখে।
যাদের ভেতরে অন্য স্রোত, অন্য গতিপথ
          এসো, অন্ধকার ভেঙে পণ্য নিয়ে যাই
স্রোতের বিরুদ্ধে যে দাঁড় টানে
            তার হাতে শক্ত হাল
            জানে কোথায় গুপ্তচড়া
তবু তরী টাল খায়
কত ঢেউ যে বয়ে গেল
নদীর বুকে যে বেড়ায় টের পায়
তার শরীরের ফাঁকে ফাঁকে হাওয়ার শব্দ
দিনবদলের বিশ্বাসে মাতৃভাষার লাবণ্যে
হারিয়ে যাওয়া ভালবাসার এক নদী নিভৃতে ঘরে ঢোকে
গাঁয়ের উঠোনে উলঙ্গ শিশু, কৃষক রমণী । ধানের শিষে আলো
ভাষার শরীরে গর্ভিণী জুমধান- ভাসান
বরাকের পদাবলী লেখে চারণেরা
প্রাণ মানুষের আয়ত্তের মধ্যে রাখার উপায় নেই
জীবন আর শপথের জীবাশ্ম দেখে প্রত্নতাত্ত্বিক
মানুষের কাছে
প্রাণের সহযোগে কোনও কিছু উজ্জ্বল করে রাখে
              সঙ্গীত, ভাষা, কাব্যকলা।
সময়ের পথে পথে মানুষকে নিয়ে হাঁটে
              পুরাকীর্তি, স্থাপত্য- ভাস্করজ,স্স্মৃতিস্তম্ভ, গম্বুজ-খিলান
ভোরের নদীতে সূর্যোদয় দেখে
যেমন চোখ মেলে চায় অসংখ্য ধানেরফুল কচুরীপানা ধনচে গাছ
জীবনের পরমায়ু জুড়ে ষড়ঋতুর সমাহারা
মণিমাণিক্যের পাথুরে খনি ভাষার পালতোলা নাও ।
    ভালবাসার লাবণ্য
আলোর পথ পেয়ে ঠিকানা খুঁজে নেওয়া
মানবের ভেতরে ছাপোষা ঈশ্বর
যুদ্ধের ক্লান্তির শেষে বোঝা যাবে দুরন্ত লোকক্ষয়
অব্যক্ত রৌদ্রের মত আম-জাম-জামরুলের শিমুলের ফুটে ওঠা
            উপকণ্ঠ শিলচর
সহসা কোকিল ডেকে ওঠে
আগুনলাগা কৃষ্ণচূড়া বন
সম্বৎসর সজাগ শহিদবেদি প্রত্নতাত্ত্বিক স্মৃতি
      রৌদ্র কুড়ায় গুন গুন পাগলা ভ্রমর
জগৎজোড়া মতিভ্রমে
অরূপ বাঁশি লুটিয়ে কাঁদে
কীসের জন্য ?
শূন্য হাতে যে করে ঘর, অসীম করে তারই সন্ধান ।
প্রজাপতির মত জ্বলজ্বল করে দূরান্তের নক্ষত্ররা
প্রণয়ের মজবুত বাঁধ ভালবাসা ছাড়া কেউ বোঝে না
বনানীর তন্ময়তা
জানে সালোক সংশ্লেষণ
দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত অমৃতস্য পুত্রা
বোঁটা থেকে খসে পড়বে বলেই
সুসময়ে পেকে যাওয়া ফসলের অঘ্রাণ
তোমাকে নিয়েও পরিভ্রমণে মাতৃভাষার সবুজেভরা পৃথিবী
আমার কুশিয়ারা কলংমার কূলে হাজির অশ্বমেধের ঘোড়া
            জাহ্নবীর আনাগোনা
                       আগামী পৃথিবীর গান । 
মাতৃভাষা 
                 
এমন সময় কেমন আছে সে
যে আমাকে বাউল বানিয়েছে- 
মায়ের কথায় বুক ভরে নিঃশ্বাস নেওয়া যায়
বাঁধা নৌকা ছুটে যায়
নদীর উচ্ছাসে হয় শ্রুত
ঊনিশ আর একুশের রক্ত গান গেয়ে ওঠে ।

একুশের কথা বলছে ওই ভোরের শিশির
ঊনিশের কথা বলছে ভোরের আকাশ,বাতাস,সবিতা ।

Saturday, 27 October 2018

রাজমহিষী, রহস্য-দরজা / স্মৃতি পাল নাথ 🌷🐟🌿🌺🌱🌷🍁🐌🌾🐚


অমৃতকুম্ভ নিয়ে ফিরি
বাড়ি কোনটি? দেখাও তুমি
দু'দণ্ড জিরোতে পারি
গানের মধ্যে চিনতে পারি
স্থায়ী কিংবা সঞ্চারী
শাম্পান ছুটে চলে
অন্তরা-আভোগ ভুলে
ছুটতে থাকি
চেটেপুটে দুঃখ খাই
পাখি খুঁটে গাছের বীজ
ঠিকানা ভুলে যাই
ধনুকের মতো উঠে দাঁড়াই
যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালাই
গাছে গাছে আলো ফোটে ফুল হয়ে ঝরে
দরজা খুলে বেরিয়ে আসে বাল্যকাল
রহস্য- দরজা দুলতে থাকে
পথে বেরোই
ধানক্ষেত ফুটে ওঠে প্রান্তর জুড়ে
তেপান্তরের ঘোড়াগুলি টগবগিয়ে আসে
হেঁটে যায় এদিক ওদিক ঠুকোর খায়
আমার কাছে এলে পরে
রাজমহিষী আড়চোখে চায়
গাছগুলি সব জেগে থাকে সবুজ হয়ে
পাখির চলা দেখতে পেয়ে ফুঁপিয়ে ওঠে
তোমায় আমি চিনতে নারি!

একটি সৈনিক মন আছে
যুদ্ধক্ষেত্র আমার ভেতর লুকিয়ে কেবল নাচে
নক্সীকাঁথা বুনছে কেউ
সোনামুখী সূঁচ দাও
ফোঁড় তুলি, এঁফোড় ওফোঁড় হয়ে যাই
তল্পিবাহক স্মৃতিগুলি সমঝে চলে
আমার থেকে
সম্পর্কগুলি ফুলের মত ফুটতে থাকে
ফোঁটা ফোঁটা জল কুড়োই
চোখ তা জানে
উঁচুজমি টিলাপথে মহাদেব বাড়ি
দেখা যায় কোনখানে

দু'হাতে ছড়ানো কাঁটা ডিঙিয়ে যাই
কি ভেবেছো চুপসে যাই? 
বেলুন ফুলাই রীতিমতো উড়াই
তার চেয়েও বেশি ঘুড়ির মত
বাঁচতে জানি লাটাই হাতে
ভাগ্য করে বিকিকিনি
ধপাস হয়ে স্বপ্নরা সব মুখ ভ্যাংচায়।

আলুথালু জীবনযাপন
ভয় পেয়োনা ছায়াসঙ্গী
অতিপ্রাকৃত ছায়া পড়ে
ছিন্নভিন্ন সুরে আমি গেয়ে উঠি
কোন ইশারা পেলে তুমি
চাঁপার বনে এগিয়ে যাবে
চালতাগুলি কুড়িয়ে নিই
শিশুগুলি সঙ্গে চলে
ননদের মেয়ে, দেওরের মেয়ে ও ছেলে সঙ্গে চলে 
ধানের খেতে মেঘের সঙ্গে চালতা বনে,ঝিলের পথে
জানো, আমাদের একটি ঝিল আছে
লৌকিক নাম আনোয়া তার
পাখিগুলো উড়ে চলে
নীল শাপলা লাল পদ্ম হলুদ কুঁড়ি ফুটে ওঠে
পানিসিঙারা কাঁটা দেখায়
তুলতে গেলে লাগে বড়ো
দেওরঝিরা এগিয়ে আসে
জ্যেঠিমণি লাগবে গো!
ঝিলে আমরা পা ভিজাই
মাছগুলো খেলা করে
তাকিয়ে দেখি জোঁকগুলি সব তেড়ে আসে
পালাই বড়ো।
ডাহুক তিতির বালিহাঁস সঙ্গ ধরে 
বেরাবাক গ্রাম, কাপ্তানপুরে রাজার বাজার
যেখানে যাই নৌকা করে
ননদিনী সঙ্গে থাকে কয়েকজনা
তাদের সঙ্গেও ছিলাম বেশ বহুবছর
বুকের ভেতর ঢেঁকির পাড়,
ঢেঁকিশালা খুলে যায়
জানো, আমি গাঁয়ের বৌ
সঞ্জীবনী সুধা আছে
লুকিয়ে রাখি!
উৎসুক লোক দেখবে জানি
পদ্য খোলে আমার ভেতর আরশি জাগে
রাত্তিরদিন অবিরল। বৃষ্টি পড়ে
কাঁঠাল বনে পিঁপড়ে হাঁটে সারিসারি, কামড়ে দেয়  
হুঁশ আসে। উদ্ভিদ জীবন দেখে দেখে সবুজ হই 
লাল দরজা খুলে আসে গাঁয়ের বৌ
একে আমি চিনতে পারি
স্মৃতি তুমি!?

কবির খাতা / স্মৃতি পাল নাথ 🌹🌹🌹🌹

বৃক্ষরা সব চুপটি মেরে আমায় ডাকে
কাকে খুঁজছো? সবুজ জমিন পড়ে থাকে। ডাহুক তিতির বালিহাঁসের দৌরাত্ম্য দেখে। জলজ উদ্ভিদ সব লেখার ভেতর ঢুকে পড়ে। মল্লিকা ফুলগুলো সব ফুটে ওঠে তোমার বনে
তুমি আমি পথ হাঁটি,ছড়িয়ে যাই এদিক ওদিক সন্ধিক্ষণে পথ ভুলে যাই আমিই দোষী এরকমই কবির চলা ছন্দ,কমা-দাঁড়ি বিস্রস্ত একাল সেকাল পথ মাড়িয়ে যায় পুজোর বেলায় সন্ধ্যা কাঁপে পিদিম নিয়ে বর্ণমালায় সম্মেলনে দুপুর হাঁটে সকাল হাঁটে অদ্বিতীয় সব মেঘ হাঁটে ভুবন জুড়ে তবুও আমার আলো ঠিকরোয় পদ্ম বনে ফুলগুলো সব জেগে ওঠে যখন তখন গানের মত অলিগলি সব উড়তে থাকে ফুল আর অলি পরস্পর যুক্ত হতে ভালোবাসে।বৃক্ষগুলি সব সারিসারি দাঁড়িয়ে থাকে, ছায়া দেয়। ফুটে ওঠে কাশফুল সব।

             এইদিনে তাই চুপিচুপি পালিয়ে যাই পথের রেখায় শরণার্থী জীবন কাঁপে বরাভয়ে বাতাস তখন নিস্পৃহ উড়তে থাকে নদী উড়ে, পাহাড় জুড়ে ছুটি নেই বার্তাবহের শিশির পড়ে শরীর জুড়ে শব্দ তখন খেলা করে বিশদ রঙে সম্ভাষণে ঝুলে থাকে একটি ফুল একটি পাখি দূরের পাহাড় পাঞ্জা লড়ে
সবই কি ভুল?
           উঠোন জুড়ে স্মৃতির পালক। ঝরাপাতা মুখর হয়ে গঁলিঘুজি জুড়ে থাকে। পদ্মফুলে ভ্রমর কাঁপে কাশবনে ছন্দ উড়ে শেফালিকা ঝুড়ি ঝুড়ি শরীরে খেলে যখন তখন। কবিতারা ঠুকোর খেয়ে লুডো খেলে গড়ের মাঠে টাকা পয়সা তুচ্ছ হয়ে সঙ্গে হাঁটে স্ট্যাটাস নিয়ে সবুজ বনে যুদ্ধশিবির জেগে থাকে। মনের ভেতর ইচ্ছেরা সব পাখি হয়ে উড়তে থাকে ফুলগুলো সব ফুটতে থাকে উঠোন জুড়ে ঘরের পাশে গাছগুলো সব তাকিয়ে থাকে আমার দিকে অজস্র ফুল বুকের ভিতর থুবড়ে পড়ে মাটির বুকে আমিও তাই ফুলের মতো কাঁপতে থাকি, বাতাস খেলে...

ত্রিনয়ন / স্মৃতি পাল নাথ 🐌🐚🍁🐟 🐠🌷🏵🐌

প্রজাপতি একটি অমন ঘুরে এল শুভক্ষণে
মেঘ করেছে ভাঙছে রোদ্দুর, হিসেব খাতায় কেমন ভুল?একটি গোলাপ হেসেই পাগল যাচ্ছেতাই ফিসফিসানি, মাধবীলতা ঝুলে পড়ছে। বসতবাড়ি , চাট্টিখানি?  সামলানো ঘরদুয়ার কোন পথে যাই মাধবী গো, ফুটে উঠছো দুকূল ছাপা কপালে ওই মগ্ন চাঁদ ধনুকছিলায় পড়ছে টান আগল ভেঙে গুপ্ত নির্মাণ ফসল মাঠে শস্যদানা খেয়ে চলছে ইঁদুরছানা আটপৌরে ওই দিঘিখানা জুড়ে বসছে শাপলা, শালুক, শামুক,ব্যাঙ
রঙীন আঁচল উড়িয়ে যাচ্ছে ধানের ক্ষেতে সূর্যমাদল মাটি লেপা উঠোন জুড়ে নায়রি যায় পুকুরঘাটে মাধান বেলায় নৃত্য করে কপাট খুলে একটি মেয়ে কেমন গাইছে উদম সুরে চেনামুখ কেন অচেনা হয় ধুলোয় লুটোয় বিড়ম্বনা সব সঙ্গোপনে টুকটাক ওই লেগেই থাকে বিষম ভয় পায়ের নিচে বালিয়ারি তরঙ্গ খেলে শ্রীময়ীর চোখ সজনেতলায় পথ হেঁটে যায় বৃত্তাকারে অচিন রোদ। 

                  এই উঠোনে আমার  শৈশব এক্কা দোক্কা গাড়ি চড়ে একটি নদী গুমড়ে মরে বুকের ভিতর হাপুস করে পাটাতনে পা রাখি তাই হোঁচট খেয়ে গড়িয়ে পড়ি জলের পথে চলছে মেয়ে সবুজ দ্বীপে যাবে সে বাতাস চলে, সান্ত্বনা নেই গোলাপ পাপড়ি ছড়িয়ে পড়ে মাথার উপর কে ছড়ায় ফোঁটা ফোঁটা পুণ্যে কাঁপে আমার এই বসুন্ধরা। সংকেত পাঠায় গুপ্তঘর কেমন আছিস স্মৃতি তুই? স্মৃতিরঘরে অদৃশ্য এক সোনার খাঁচা খাঁ খাঁ করে কোন পথে যাই বল রাখাল আলপথে আজ হাওয়ার ঝিলিক গ্রামগুলি সব ধেয়ে আসছে বুকের ভেতর সূর্যমুখী ফুটছে, নিভছে উঠোন ভর্তি,গভীর শ্বাস অঞ্জলি হাতে আমি দাঁড়াই কেবল নাচায় ডালপালা ফুলের বনে ঢুকে পড়ি চেতনা তাই শাসন করে ঘাম ঝরানো কৃষক মাঠে সব্জি ফলায় অলৌকিক স্নান।

         দূরদূরান্তে আমি চলি নৌকাগুলি থমকে দাঁড়ায় শালুক তুলে কোঁচড়ে ভরি গেঁড়ি-গুগলি চাপা হাসে পানিসিঙ্গারা চোখা  হাসি দেখছি তোমায় পরের বার। দু'বাহু জড়িয়ে ওঠে জোঁক সব পিছল পা। আমন্ত্রণ নেই ছুটি কাটে সবুজ পাতা ভর্তি হয়ে গাছগুলি সব আমায় দেখায় জীবন কেমন,কপাট খোলা নারী পুরুষ রূপকথা বক উড়ে যায় সারস হাসে মাছরাঙা সব নষ্ট বিকেল জলের ভিতর মাছ দেখে মৎসকন্যা একদিন তুই আমায় কেন ডেকেছিলি আমি জানি, কি জানি ছাই এমন থাপ্পর আমায় দিলি, পাওনা ছিল, স্মৃতির সিন্দুক ভরা আলো ঠিকরোয় বর্ণছেঁড়া গাছের পাতা জিরাফ একটি গ্রীবা দেখায় ও জিরাফ গো, তুমি কেন পিছু নিলে জলে পড়ি আমি এখন তোমায় দেখে ছলোচ্ছলে চাঁদ পড়েছে  বুদবুদ ভরা জলের ভেতর তার মুখ, জোছনা ভরা উঠোন দেখে আমি করি কেবল ভুল ভুলের ভেতর অসুস্থ এক ছন্নছাড়া কবুতর ডাকে শান্তি তার প্রাণ ছুঁয়ে যায় অম্লানবদন সমুদ্র দেখে সমুদ্রের পারে উঠি স্নান করে গলদা চিংড়ি কারা ধরে? বিয়ানবেলা স্রোত কেঁপে যায় পারের দিকে দরজা খুলে ফুলগুলো আমায় রাখে বুকের ভেতর ফুটে উঠে শব্দসেনা। কোথায় বাড়ি মেঘের ঘর  মেঘ তুই আমায় নিবি সঙ্গে করে সর্ষক্ষেতে ঘুরবি তুই হলুদ বুকে ঝরে পড়বি বিচি ভরা আলস্যতে মাঠ জোড়া ওই সর্ষক্ষেত আমি হাঁটি দিগ্বিদিক তুমি যাবে সঙ্গী পেলে আমার তাতে ক্ষতি কি অপরাজিতা ফুলগুলি সব বেড়ার মধ্যে ফুটে থাকে লক্ষীবাড়ি দেখতে মানা কে বলে যায় সম্মুখে একটি বাড়ি হাত ধরে তাই চেতনা কাঁপায় সমস্বরে ভুলগুলো সব রঙীন হয়ে অট্টহাস্যে চিৎকার করে
ভোরের বেলা মাগো তুমি ত্রিনয়নী এমন এলে দুয়ার খুলে আমি জাগি, জানা কি ছিল
হৃদয়পুরে!

বেয়াদব সময় / স্মৃতি পাল নাথ🍁🐠🌱🐟🕊🐦🌾🍂🌼🌷🍁🌿

আকাশপ্রদীপ জ্বলে জ্বলে নিভতে থাকে
জানি না কোনটি ঠিক,বেয়াদব সময় এমন
আমার সঙ্গে পথ হাঁটে ধুমকেতু, উল্কারা সব

একলা উদোম ভালবাসা অগ্নিবীণা চুপিচুপি
বাজিয়ে চলা,কিসের এত তাড়া তোমার
একটু বসো, পরমক্ষণে থিতু হওয়ার সময়টি নেই

গেরস্ত ঘরে দিন কেটে যায় পিদিম জ্বলে
তুলসীতলায় মাগো তোমার ছোঁয়া পাই
ভুল ওই হেঁটে যায়, আকাশেতে ভেসে
উঠে আলোর রেখা তাকে ছোঁব সাধ্যি নাই।

দূরবীণ / স্মৃতি পাল নাথ 🐦🕊🏵🐠🌷🌼🌹🏵🌾🍁🍀🍁

চাঁদবদন, অধোবদন
দূরবীণ দিয়ে তোমায় দেখি লক্ষ্মীসোনা
ভূত ভবিষ্যৎ বিভাজনে পড়ে থাকে
ফুল ফোটে বাড়ির উঠোন আলো করে
তোমায় নিয়ে ব্যস্ত থাকি
গেরস্থালি জীবন সুন্দর
স্বীকার করি খালি পেটেও পদ্য হয়
কবিতার হাড়গোড় জোড়া লাগাই
জাদু হাতে শব্দগুলো,
ও জাগলার ভাই আমায় দেখাও
সন্ধ্যেটা কাটে আয়েশ করে
গোধূলি কাটে ল্যাজঝোলা পাখি দেখে।
আকাশেতে নক্ষত্র ফোটে, ছায়াপথ আমায় ডাকে।  উড়তে থাকি চলতে থাকি
নির্ভরশীলতা পড়ে থাকে।

আজ আমার এমন দশা
গাছগুলো সব ফুলে ফুলে আমায় ভাসায়
সুরে সুরে বৃক্ষজন্ম পাখির রব ওই শোনা যায়
জীবনচক্র ঘুরতে থাকে,জ্যোতিচিহ্ন জানা নেই
উড়তে চেয়ে ঘুড়ির মতন
মুলতবি সব, লাটাই হাতে ঘুরিফিরি
কৈশোরেতে ঝাঁপ দিয়ে তুলি
পিপীলিকার পাখাগুলি
স্মৃতির খাপে চশমা খোলা
দু'চোখ শিউরে ওঠে
শাল দেবদারু বনে হারাই
ক্ষতবিক্ষত হৃদয়খানি উপুড় করে কে দেখায়
ঘুড়ি উড়ছে সূত্র ধরে ভবিতব্য আমায় নাচায়।

পথটি যেন অচিনপুরি / স্মৃতি পাল নাথ🐠🐌🏵🌷🍁🌿🌾🍀🌱🍁

যুবতীবেলা দাঁড়িয়ে থাকে
বকুল গন্ধে টুপটাপ ঝরি
ওই পথ দেখা যায়... কুসুমকাল গড়িয়ে যায়
কমলকলি সরোবরে মুখ লুকোয়
অভ্যন্তরে তোমার সাথে আমার দেখা
চাঁদের বুড়ি দেখে দেখে
দিন কাটেনা আহ্লাদেতে
বলতে মানা সঙ্গোপনে তোমায় খুঁজি
বিকেলবেলা চাঁদ হেঁটে যায় কমলা রঙের
উর্দি পড়ে। সম্বন্ধ খুঁজে বেড়ায়
চালতাতলা আম্রকুঞ্জে পথ হেঁটে
তোমায় দিলাম উদাস দুপুর মন কেমন দ্রাক্ষাকুঞ্জ অক্ষরবৃত্ত স্বরবৃত্ত লেগেই আছে পিছনপানে
মধ্যবর্তী পদ মিলে যায়
শৃগাল চলে চুপি চুপি বনবাদাড়ে
কচুবনে মাঠের রাখাল তোমায় খুঁজি
রণসজ্জা দেখতে পেয়ে পালিয়ে যাই
উড়নচণ্ডী মেঘের সঙ্গে হল্লা করি
যখন তখন ভবিতব্যের ভাষণ শুনি
নিয়তি তাড়িয়ে বেড়ায় তাই প্রেমিকা
পুণ্যজীবন দাপিয়ে বেড়ায়
আমার সঙ্গে তোমার দেখা
একটি বিকেল একটি বিকেল
চাঁপাফুলের গন্ধ ছড়ায় চম্পকবনে কিসের ত্রাস উজানভাটি পথ চলায় সাঙ্গ করি দ্রোহকথা
গজিয়ে ওঠে মৌমাছিরা মধুমাছি জীবনগাথা কৌতুকে কাটে জীবন, উত্থান পতন শেয়ার বাজার
জীবন জুড়ে বাদ্যি বাজে   
দু'হাতে তোমায় সামলে চলি দুর্মর এই জীবনব্যাপী
ভালবাসার মেঘ করেছে সরসীতে কলস দোলে
আয় নারে স্কিপিং খেলি ফুলগুটি এই জীবনব্যাপে
তোমার সাথে দেখা হলেই আহ্লাদেতে শুনশান হই
ফেটে পড়ে কার্পাস তুলো দিগ্বিদিক
বর্ণমালা পথ হাঁটে
পথটি যেন অচিনপুরি
ব্যাঙমা-ব্যাঙমির সঙ্গে দেখা তাদের সঙ্গে গল্প করি
তোমার কেন মুখ ভার?
মুখাবয়বে তুমুল হাসি উচ্ছে করলার দিন কাটে
চাঁদ হাসে তাই গোলাপ কুঁড়ির
অসংখ্য মুখ জেগে ওঠে
সূর্যমুখী চন্দ্রমল্লিকারা ভুবন কাঁপায়।
পথ দেখা যায় পথের সাথে সন্ধি করি।

দিব্যঘর / স্মৃতি পাল নাথ 🐠🍂🐟🐦🌾🍁🌷🏵🌾🌿🍀🐌🐟

মায়াস্নান সেরে হেঁটে যায় বৃষ্টি 🌧
জবাগুলো ফুটতে থাকে
সবুজভরা পাতা গাছ
ফুলে ফুলে হাওয়া খেলে
সাঁঝবাতি জ্বলে,
জোনাকিরা পথ ভুলে যায়
ক্রমাগত ঘর বদলে যায়
ভয় কি তোমার দিব্যঘরে।

সন্ধ্যামালতী দাওয়া ধরে ফুটে থাকে
লুকিয়ে চুরিয়ে আচার খাই
সুরম্য ভবন ডাকে
চালাঘরে চড়ুইপাখি লাউয়ের ডগা সবুজ পাতা
লাউটি আমার বেশ দোলে নধর কেমন! 
গেরস্ত ভুবন সঙ্গে ফেরে
আমার সঙ্গে সর্বক্ষণ দহরম মহরম
হাসো কেন?
আয় নারে তুই সঙ্গী হবি, দেশান্তরে
মেঘ হেঁটে যায়
অরণ্যপথে ভিজি আমি একা একা
হরিণগুলো জল খেতে যায় আমলকি বন
বাঘগুলো সব ওৎ পেতে
কলমিলতা ভাসতে থাকে জলের ঘরে
বেগুনিফুল ফুটে ওঠে।

পথগুলি এবড়োখেবড়ো
দিঘির বুকে সন্ধ্যা নামে
গাঁয়ের বধূ আমায় ডাকে
এগিয়ে যায় নিষেধগুলো
ভিজেবেড়াল কোনখানে তুই?
বাঁদরগুলো গান শোনে না
পিঠের 'পরে উঠে পড়ে
নৌকাগুলো হামলে পড়ে
তলিয়ে যাওয়ার ভয়তো নেই
জাল হাতে মাছ ধরতে বেরোই
কুমিরগুলো পারে ওঠে
আমার ঘরে চলে আসে
ভিরমি খায় আমায় দেখে
ঘরের ভেতর!

ছদ্মবেশে / স্মৃতি পাল নাথ

প্রতিধ্বনির মত কিছু কথা ভাবায় ফুটে থাকে চিন্তার অলিন্দে রং হয়ে ওড়ে বসন্ত বাতাসে কিছু কাঁচপোকা ঘুরে পৌষের মাঠে খড়ের গন্ধ লেগে থাকে হেমন্...