Saturday, 17 November 2018

নয়নতারা / স্মৃতি পাল নাথ 🌱🌿🌾🍀🍁🌿🏵

চাঁদ ধরতে গেলে চাঁদ পিছলে যায়
ভাত রাঁধতে গেলে হাত পুড়ে যায়
পদ্যের উনুনে হাঁড়ি বসাই
তাই তো জ্বলে হাত
সবুজ কলাপাতায় বেড়ে দিই অন্নপ্রসাদ
খেতে হলে চল ভাই
সবুজ,লাল,ধানিলঙ্কা সঙ্গে নুন
পনির ডাল, উচ্ছেকরলা ছ্যাচড়া আরো আছে
ধোকার ডালনা, কাঁচকলার বড়া পাতে সাজাই
চালতা টক শেষপাতে অমৃত মিষ্টান্ন
প্রাণ আইঢাই পায়তারা করোনা ভাই
চলে এসো শিগগির
আটপৌড়ে কথারা ঝুলে থাকে
গ্রহ নক্ষত্র আকাশে সম্মোহিত সই
ক্ষ্যাপা আমি,পত্রপল্লবে পুষ্পিত বৃক্ষ
জ্যোৎস্না আনচান করে
শিশিরে আচমন আমার
সাগরের জল সর্বদা পাব কোথায়?
দুঃখের নোনা স্বাদ ঠোঁটে এসে লাগে
ব্যাকুল সাগর বুকে উঠে আসে
বকুল ঝরেছিল একদিন যার পথে
সেই দিনগুলো সাঁঝবাতি হয়ে দেখা দেয়
মায়ার মত শুয়ে থাকে আশেপাশে
পায়রারা উড়াউড়ি করে সুখের কার্নিশে
নীরবতা নিশ্চুপে বসে থাকে
পথচিত্র বদলে যায়
তৃষ্ণা
অগণিত শব্দবোধ
মৃত্তিকায় গাছ বেড়ে ওঠে
নয়নতারা তুই
ঝরাপাতা উড়ে আসে ফাল্গুনের শেষ বাতাসে
টের পাই বাক্যের আভা
কুশল জানাতে ভয় পাই
স্তব্ধতার মাঝে উদ্বিগ্ন সুর জেগে থাকে
চাঁদ ধরা দেয় জলের মাঝে
প্রতিবিম্ব কথা বলে
উড়নচণ্ডি মেঘ বাতাসে বেপথু রাত্রি তমসা ঘনায়
উদ্বেল নৌকার যাত্রী দলবেঁধে গান করে
স্তুতিগান ঈশ্বরের
'আল্লা মেঘ দে, পানি দে ' এ গানটি
এখন তো নয় ভাই
পার হয়ে যাই নিশ্চিত
ঢেউগুলো দাপায়
পারাপার মাঝি জানে
তবুও তো ভয় পাই
শ্বাপদসঙ্কুল এ জীবন
লহমায় স্থির আয়ু
ঘুর্ণিবাতাস, ছলছল চোখ আপাদমস্তক জলের গন্ধ
গোলাপ হেসে ফেলে
স্তিমিত ক্রোধ
ভাঁড়ের তামাশা
উদোম পথটিতে একলা হেঁটে যাই আমি
গাছগুলোতে সুঘ্রাণ ঘুরছে
ফুল ফুটবে
কলির উঁকিঝুঁকি
একটি দিনশেষে আলো মুছে যায়
খেলাঘরে আলো অন্ধকার তুমুল কথা চলে
ভ্রমে দিন কাটে
সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে ফেরে
উদরাগ্নি কেঁপে ওঠে
খিদে, বড় খিদে ভাতের ডেকচি উল্টে পড়ে
টগবগে ফ্যানভাত লেগে হাত পুড়ে যায়
কবিতা আমার এইভাবেই লেখা হয়
ভাটিগাঙ দেখা যায়
তীরে এসে উঠে নাও
প্রার্থনা, ঝড় দিও না
হাসিখুশি চাঁদ লটকে আছে আকাশের গায়
বধূটি আনমনা
মূর্খ আমি, আহ্লাদে মাটিতে পা পড়েনা
হালিচারা তুলে নিয়ে গেছে চাষির বউ
দ্বিধা ছাড়া এগোতে পারিনা
সম্ভাব্য আকাঙ্ক্ষাগুলো আলো আর ছায়ায় দোলে
দ্রুত অনুকম্পা এসে ভর করে
সিংহদরজা খুলে যায়
বাতাসের বেগ লুটোপুটি খায়
অমৃতস্য পুত্রা পিছন ফিরে চায়
রাজা,তোর শাসন মানি না
বলার দিন কি এসে গেছে
শাসন চলছে, ক্ষমতার দণ্ড
নারী পুরুষ কোনও বিষয়ই নয়
ক্ষমতা বলে সব কিছু করায়ত্ত তোর
স্তোত্র পাঠ চলে
রাজা যাবি কোথায়?
আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা সময়ের নাগপাশ
আস্তগাধা।
দৌড়ে যায় বিবেক, বুদ্ধি, লয়
ভ্রমরের গুঞ্জন শোনা যায়
মধুলোভী মধুসংগ্রহকারীর সঙ্গে তার দেখাসাক্ষাৎ
আস্তাবলে ঘোড়া বাঁধা আছে
রাজা চলে বনবাস বনপথে হাটা চলা শিকার ধরা
মৃগয়া ভূমি।
নেশা আর বিনোদন পথিমধ্যে চলে
জীবন অনুকম্পা মাত্র
কে বা কার কথা শোনে
ভ্রূকুটি শোনেনা, দেখেনা শুধু চাঁদ সূর্য নক্ষত্র
উল্কাপাত চলে
কত কী বাঁধা আছে কপালে
অস্তাচলে তপন
সরগরম সূর্যের দেশ খলবলিয়ে ওঠে
গোধূলি, রাত
তোমাকে তো চিনি না
অনুযোগ ছাড়া তার চলন নেই
পদে পদে অনুযোগ
চূর্ণ মায়া, গেরস্তালি পড়ে থাকে তোর
ভাতগুলো গিলতে থাকে কায়া
অসীম মায়া
কবিতার ঘরে আমার বসবাস
নিরন্তর ঘাম ঝরে
মলম হাতের কাছেই রাখি
উপায় নেই তাকে কীভাবে হাতছাড়া করি
ফুটতে থাকে অন্ন,তারই সুগন্ধ
এসো,এসো বসো আহারে
আহারে! আহারে মরে যাই
তোমার রূপে
সিন্দুকে ধরে রাখি বর্ণ অক্ষর বাক্য নির্মাণ
কবিতা সচরাচর হয়ে ওঠে না।
বৃথাই আস্ফালন তোর, গর্জন সার।
কবিতা লেখা কি মুখের কথা!

আলপথে হেঁটে যাই
লাঙলগুলো নড়ছে
ট্র‍্যাকটর চলে সবখানে
কাল যা ছিল আজ নেই
ইতিহাস সবখানে
ঘাপটি মেরে আছে শুনশান বেলা
জ্যোৎস্নায় পথ চলা
চাঁদ সবার সঙ্গে থাকে
অঙ্গাঙ্গিভাবে সমাদৃত নিয়তি বাহবা দেয়
তোমার সঙ্গে আমার দেখা
একটি জীবনে সাঙ্গ হয়না আখ্যান লেখা
কলকব্জায় জং ধরে
সামলে রেখো পরাণটা
একটি দু'টি ফুল ফোটে
ভোরের দিকে দোর খুলি
সঙ্গোপনে উঠোনকোণে লুটিয়ে পড়ে বাসি ফুল।

No comments:

Post a Comment

ছদ্মবেশে / স্মৃতি পাল নাথ

প্রতিধ্বনির মত কিছু কথা ভাবায় ফুটে থাকে চিন্তার অলিন্দে রং হয়ে ওড়ে বসন্ত বাতাসে কিছু কাঁচপোকা ঘুরে পৌষের মাঠে খড়ের গন্ধ লেগে থাকে হেমন্...