Saturday, 15 December 2018

ছদ্মবেশে / স্মৃতি পাল নাথ

প্রতিধ্বনির মত কিছু কথা ভাবায়
ফুটে থাকে চিন্তার অলিন্দে
রং হয়ে ওড়ে

বসন্ত বাতাসে কিছু কাঁচপোকা ঘুরে
পৌষের মাঠে খড়ের গন্ধ লেগে থাকে
হেমন্তের হিম কুয়াশায় আবেগ ছোঁয়
অজানা পথে শিহরণ খেলে
যৌতুকে সম্পদে ভয় নড়েচড়ে, চঞ্চল হরিণী 
আয়ুষ্কাল ফিরে পায় যযাতি ও বৃদ্ধ বালক

তোমাকেও ভর্ৎসনা করে গোলাপের কাঁটা
তুমি ছুঁয়েছো তাকে বাসরের আগে
তাই কিঞ্চিৎ ব্যথা
লাজ নেই লজ্জা নেই
বিবেকের ব্যাথিত মুখ
তুমি কি দেখবে জড়িয়ে আছে কতটুকু সুখ
তোমার শরীরে আজও নিভাঁজ কথকতা
উন্মুক্ত কথারা চুপ মেরে থাকে
ঝিম ধরে বসে থাকে আলুথালু উপন্যাস
আসলে তোমাকে নিয়ে বড় ভয়
খেলা করে বিক্রম তোমার সঙ্গে
ছদ্মবেশে আর পারি না।

Friday, 14 December 2018

অভিমানী শব্দ, দৈববাণী / স্মৃতি পাল নাথ 🐣🐥🐥🐺👫

অশরীরী শব্দগুলো কোনঠাসা করে
ঝাঁপাতে থাকে
ঝাঁকুনি খেয়ে ভয়ে আহ্লাদে পিছুও হটি
ভেসে যায় ঢক্কানিনাদ
তাবড় তাবড় মহারথী সমঝে চলে
অভিমানী শব্দের বাজখাঁই গলা
বলতে আমার বাধা নেই
শব্দরা আমায় ভুলে থাকবে তা কি হতে পারে!

মাথাগরম লোক  সামলানো চাট্টিখানি ব্যাপার? প্রসাদগুণে বেঁচেবর্তে থাকা
সততার মুখটি বড় বাঁকা
সৌম্যভাব নেই আবেশে পথ চলা
অতিশয় লালসা পথ জুড়ে দাঁড়ায়
প্রশংসিত হলেও স্তুতিবাদ ভয়ানক
এড়িয়ে চলতে হয় ছলাকলা

অনর্থক বাক্য প্রলুব্ধ করে তোমায়
অর্থশূন্য কথা বলা প্রলাপের নামান্তর
উপসর্গ থেকে বহুদূরে যাই
খ্যাঁক করে খেঁকশিয়াল
ছোট ছোট হাঁস কোমর দুলিয়ে চলে
পাইচারি করে সময়কাল
পাথর ছুঁড়ে শিশুরা খেলে
চরণকমলে এসে লাগে
বৃদ্ধরা বরাবরই বিন্যস্ত, মানুষ
চুয়ান্ন পেরোলেও দিব্যি
হন্তদন্ত করে চলে স্বপ্নের ভেতর
ছুটে বাড়ি ফেরে যেখানে যার ঘর
নিবাস কোথায়, পান্থপাদপ মরুভূমিতে গজায়
উন্মুখ কেন তুমি কথা বল ধীরেধীরে
দুপায়ে হাঁটি দোটানায় পড়ি কোনদিকে যেতে হবে
বুঝতেই
পারিনা দেয়াল এসে অলৌকিক বাধা দেয়
অমানুষী কথা বলে দৈববাণী চলে অদৃষ্টের ফের দুর্ঘটনা ঘটে প্রত্যাদেশে ফিরে যাই
মানুষের ইচ্ছার অধীন নয় যা কিছু তা ছুঁয়ে ফেলি

আশ্চর্য অপ্রত্যাশিত ভাবে বিনীত হয়ে ওঠে
আচ্ছাদিত হয়ে ফিরি মাথা উচুঁ করা
তুড়ি দেওয়া চলতে থাকে
গান যে চলে আমার সঙ্গে
পুন্যস্থান বলি তাকে
তিলকচিহ্ন ধারণ করে
যৎসামান্য ঘোরাফেরা
বৈষ্ণব অঙ্গে তিলক সেবা
পরিমিত জ্ঞান
জ্ঞানশূন্য করে আমায়

Thursday, 13 December 2018

বিদূষক সময় / স্মৃতি পাল নাথ 🚣⛵🛥🛳👫

শব্দে বর্ণে হোঁচট খেয়ে
নষ্টচন্দ্র বিপাকে পড়ে
নড়েচড়ে বসে দোদুল্যমান সময়
নজরানার চল নেই
উপঢৌকন কাকে দেবে
সেই রাজাও তো নেই
নটঘট চলে যত
অবৈধ প্রণয়ে লিপ্ত
নত মস্তকে চলেন তিনি
সজাগ হয় নন্দনকানন
নিটোল এক গল্প লেখা
আর হয়ে ওঠে না
দ্যূতক্রীড়ায় ব্যস্ত সাধুবেশী নরেন্দ্র
একের রথে অন্যের অশ্ব জুড়ে
গন্তব্যস্থানে পৌছে যাওয়া
আকাঙ্ক্ষিত যে সত্য
বৈদান্তিক জানে তা

একটু একটু করে দীর্ণ হতে থাকে
মোহ প্রেম মায়া
এক বিদূষক ঘুরে ফিরে সকলকে হাসায়
নাটক জমে ওঠে
চাঁদোয়া ঘিরে পটমণ্ডপ
যজ্ঞ চলে অনির্বাণ
উৎসব ভোজ শেষ হয়ে যায়
বিদূষী ফিরে একা
তর্ক বিতর্কের আসর বসায়
সভাসদ ভড়কে যায়
বিড়ম্বনা সহ্য করে অবাক দিনগুলি
দ্রুত চলে যায়
নিন্দামন্দ চলতে থাকে
যজ্ঞে আহুতি দেয় রসিক জনতা
বিদঘুটে দিনগুলি লাফাতে থাকে
খুব কাছে চলে আসতে চায়
ভাঙানি চলে মলোমালিন্য ঘটায় ললনা

ভাস্বতী দেখে যাও তুমি
চাঁদের আভা পড়ছে বিগলিত মাঠ ঘাট
হাস্নুহানা চাঁপার বন গন্ধে কেমন মশগুল
সবকিছু তো অনুবাদ হয় না
তর্জমায় ধরে রাখি কথকের ব্যাখ্যান
নিরুপমা জানো, ঝর্নাগুলো বনের পথে
কীভাবে হারায়
বনের ধারে একটি বাড়ি, বনতলে,
তৈজসপত্র কিন্তু কিচ্ছু নেই
ফুলগুলি আকঁড়ে থাকে তাকে
হাওয়ার রূপ বদলে যায়
পাথর ভেঙে জীবন কাটে অজস্র মানবের অন্তঃপুরে সাড়া পড়ে
চারিদিকে খবর ওড়ে

সাজঘর পড়ে থাকে
যোগসাজস চলে মঞ্চে
রূপকথায় দিন কাটে
সাত সমুদ্র তেরো নদী ছাড়িয়ে
বহু দূরবর্তী এক পথের সন্ধান
মেলে কি মেলে জানা নেই
অমৃতা, তুমি শুধু দেখে যাও
জলের রং নীল না, লাল গেরুয়া
কাল সমুদ্র গর্জন করে,
নগণ্য আমরা
খড়কুটোও হাতে থাকে না
ভেসে যাওয়া, ঘূর্ণি
আছড়ে পড়া জল জানে তা
জলঘর দেখা যায়
অমৃত আহ্বান
বাঁশি এক বাজে মনে পুলক, সুর
চঞ্চল দখিনা বাতাস
তবু পরাকাষ্ঠা দেখায়
জাতক ধীর পায়ে চলে
বন থেকে বনান্তর চলা আর ফেরা
আশ্রম কুটীর, অভ্যন্তরে একা জাগে
ঈশ্বরীয় সত্তা
তাকে চেনাজানা আর হল কই

বড় কোলাহল ভিতিভিতি চৌদিকে
কলকল জল চলে
সমুদ্র ফিরে চলে
নশ্বর দেহে ঝুলকালি লেগে থাকে
তোমরা দেখে যাও রে
দেখে যাও গানের ঝুমে জেগে থাকি আমরা
দিন যায় দিবসযামিনী ফিরে তাকায়
ভালোও তো বাসে
নয়তো বেঁচে যাই কীভাবে
দুর্দশায় বিদীর্ণ  প্রাণ
অমানিশা তো কাটেই
খণ্ডপ্রায়, উদ্বেল
স্রোত চলে
আহার সামনে পড়ে থাকে
ভোজ চলে হরেক রকম
নিমপাতা ভাজা চিবোয় অদৃষ্ট
সাতখুন মাফ হয়না কখনও
নষ্টচন্দ্র, নষ্টচন্দ্র কলঙ্কের শোভা বাড়ায়

Wednesday, 12 December 2018

স্মৃতিঘর, শৈশব / স্মৃতি পাল নাথ 👫🏡

জ্যোৎস্না ঘুরে বেড়ায় মনে, কপালে টিপ চাঁদ
একা হাঁটে হনহন করে উজবুক সুখে
ফুলগুলি ফুটছে উঁচু টিলা জমিতে
রোদের সে কি অট্টহাসি
বিষম খায় রাত
একটি দুটি করে চিত্রগুলো জড়ো হয়
মেজাজে হাসিল করে অকল্পনীয় বাসনা
চাবিকাঠি দেখতে দাও
বিপন্ন বসুধা
এক বিন্দু রোদ খচখচ করে
বহুগুণে তাতায় বৃক্ষের বল্কল,
মানুষের পিঠ ঝাঁ ঝাঁ করে
যখন রোদ ওঠে
প্রসন্ন এক বেদনা ঝুলিতে ভরে ছেলেটি
ছুটতে থাকে নীল, সবুজ পুকুরে
পদ্মগুলি ফুটছে দেখো
সবুজ ধানক্ষেত হাঁ করে তাকায়
বিলোল দৃষ্টি আক্রান্ত পুকুরের মাছ,
ব্যঙগুলি লাফায়।

গ্রাম্য ললনা ফিক করে হাসে,
অতৃপ্ত ক্ষুধা
নিরালায় কাশে বার্ধক্যের যাতনা
যৌবন তুড়ি মারে
উল্টে ফেলে রঙের বালতি বিপন্ন সুখের মুখ
অবাক চাউনি
শাপলাফুল বুড়ো আঙুল তুলে ধরে ওইদিকে ডাকে
তেপান্তরের রাজপুত্তুর দৌড়ে আসে তার দিকে
পাতাগুলোয় জল খেলা করে
অহিংসা প্রেমের কোটরে ভরে
হাঁটতে থাকে হনহন দিগ্বিদিক
তোমার তো জানা আছে
অবসাদ কত ভয়ঙ্কর রূপ নেয়
পান তাম্বুল চিবোতে চিবোতে সময় চলে যায়
ঠনঠন করে
একাগ্র এক রোজনামচা
তেলের প্রদীপ জ্বালতে হলে
সলতে পাকানো কাজটি করে দ্বিপ্রহরের আগে
তোমায় তো চুপিচুপি ডেকে বলে
কেমন দেখ লাল,নীল ভুলগুলো সদর্পে হাঁটে
একটি রাস্তা চলে গেছে

ডানে বাঁয়ে ঘুরে পাহাড়ের ওদিকে
যেখানে খাড়াই আছে
দুটি পাতা একটি কুঁড়ি চোখ মেলছে
মাঝে মাঝে শক্ত তরুগুলো
পাতায় ছেয়ে আছে ছায়া দেবে তো,
রোদ তাপ শুষে নেবে
পাতার বিপ্লব
একটু একটু করে ছুঁয়ে যায়
শ্রমিক মেয়েপুরুষের ঘাম
চাপাতাগুলো প্রগাঢ় হতে থাকে
এ'দুটি হাত জানে, কোন দেশের মেয়ে
অবহেলা ভরে ডেকেছিল তোমায়
শালপাতা মোড়া সামোসা
তার হাতে ধরা  সিঙারা খাবে বলে চিৎকার জুড়ে  পেটে বড় ভুখ
মলিন আঁচলে মুছে আহ্লাদ সুখ
তোমার তো ধরা আছে
হাতে টুকরি টুকরি পাতার ফসল
এমনি করে যায় দিন
তর সয় না ভিনগ্রহের যুবকের
অনেকদিন পর বৃষ্টিতে ভিজে একসা হয়
খরাক্লান্ত পৃথিবী
জ্যোৎস্না ভেসে বেড়ায় মাঠে
গৌরব নিশ্চিত
বুঝতে পেরে কপালে চাঁদের টিপ
ঠিক করে নেয় মেয়েটি
মন ভরে খলখল করে হাসে
জ্যোৎস্নাশরীর খাদগুলিতে ভরে যায়
টইটম্বুর আলো
কাত করে ধরা থাকে মনের আয়না
চাঁদমুখের প্রতিবিম্ব। টলটল পায়ে হাঁটে একশিশু মনে অনেকগুলো ঘর
বুকের মধ্যে জেগে ওঠে বাল্যশৈশব, কৈশোর যৌবনের দিনগুলো
বালখিল্য আচরণ ভুলে
ঘরগুলোতে ঢুকে পড়ে
মাথা রাখে নিজের দু'হাতে
টানটান হয়ে শুয়ে দেখে
রঙ্গমঞ্চ তৈরি করা, পুতুলগুলো কেবল নাচে
রিহার্সাল চলছে
সুর তাল লয়
মধুর ভালোবাসায় দোলে
মাছির মত ভনভন করে ভুল, স্মৃতিঘর থেকে
কেউই বেরোতে পারেনা
শৈশবের ঘর থেকে পাল্টি খায়
দেখে মায়ের হাত কবে ছুটে গেছে
তার হাত থেকে।
চাঁদ গড়াতে থাকে
কপাল বেয়ে জ্যোৎস্না নামে। পাহাড় উপত্যকায় হৈচৈ পড়ে যায়।

Friday, 7 December 2018

স্মৃতি পাল নাথ

#আশ্চর্য্য নিবাস
তাঁবুর ভেতর লুকিয়ে আছে গুণিন এক
তন্ত্রমন্ত্র সঙ্গীত সঙ্গে ফেরে
অন্তরঙ্গ আলো
গুপ্তমন্ত্র লেখে ওই জাদুকর
স্তব্ধতা বাড়তে থাকে
ঝড় ওঠে দিগন্তে
গুরুঠাকুর দীক্ষা দেয়
অপেক্ষাকৃত গৌরবে আতিশয্যে দিন কাটে
পাঠান্তে দক্ষিণা  মেলে
একটি দিনের উপস্থিতি
অস্পষ্ট শব্দ গুমরে মরে
অনুবাদে দিন কেটে যায়
স্বত্ত রজঃ  তম গুণে লিপ্ত নহে
ত্রিগুণাতীত তাকে খুঁজি অবাক হয়ে
গুপ্তহত্যা বেড়ে চলে
গুমগুম প্রহারের শব্দ
গুমড়ানো সুরে দুঃখশোক চলে
ভেতরকার কথা বাইরে আসে
নিশ্চল এক অবস্থা যেন
আশ্চর্য নিবাস খুঁজে ফেরা
গুরুচণ্ডালী প্রহর কাটে
সাধু ও গ্রাম্য শব্দ
একত্রে যেমন হাঁটে
জীবনটাও তেমনি এগোতে থাকে পিছুতে থাকে
গম্বুজ দেখা যায়।
  #আতিশয্য ---------------
গুণিতকে তো থাকেনা ভাগশেষ
থাকেনা বলেই গুণিতকে জীবন কাটে না
মিল ও অমিল চলতে থাকে
চূর্ণিত দ্রব্য কাঁদে
দুর্বৃত্তা বেড়ে চলে
দোক্তাপান খেয়ে থাকে
মুখগুলো সব
আড়াল করে শুধাই তারে
গুপ্তচর গোয়েন্দা সঙ্গে ফেরে
সঙ্গে থাকে বিবাদ বিসংবাদ
অল্প অল্প আগুন দগ্ধ
কতোদিন আর চলে
দুই এর মধ্যে
অপেক্ষাকৃত বিষম ও ভীষণ রূপ চলে
লুক্কায়িত ভাবনাগুলো
আহত হয়ে ফিরে চলে
অবস্থা বেগতিক দেখে
অভীষ্টদেব সটকে পড়ে
গুমোট ঘরে সাম্রাজ্য বিস্তার
শ্রেষ্ঠতার পরিমাপ নেই
অলংকার পরে হাঁটে পল্লীবালা
ঝকমক করে
আতিশয্যে দিন কাটেনা
গোবরের মত চিন্তাগুলো লাট খেয়ে পড়া
কারাগার দেখা যায়
ভয়ে আমি আধমরা সংবরণ জানা নেই।
#খনন-----_
স্তম্ভিত হয়ে পথ চলা
বাগাড়ম্বর প্রয়োজন কিসের
বলবান শ্লাঘা বোধ করে
বৃহস্পতির দশা তার
মাতাপিতা বিয়োগ হয়ে যায়
ক্ষতি আর ক্ষতি
গুরু অথচ গম্ভীর দিন যায়
মেঘধ্বনি করে চলে
চেপে রাখে ব্যথা সব
আতঙ্কিত অধ্যায় চলে
ভূমিখনন বেড়ে চলে
সোপানগুলো জাগতে থাকে গহ্বর ফুঁড়ে
গ্রহীতা এক গোপন সংবাদ আনে
আকর্ষণ বেড়ে চলে
তোমার সঙ্গে দেখা হলে
হাস্যমুখ ভালো লাগে
জাপটে ধরে গণ্যমান্য দুঃখ যত
বিদ্রুপাত্মক কথা ওড়ে
বাক্য আর আচরণে মুখগুলো দুলতে থাকে
সুগন্ধী পুষ্প নিয়ে আসে।
#আঁকাবাঁকা  পথ------------
জীবনের মধ্যভাগে রোগবালাই বিষম দায়
হিল্লোলে কাটেনা দিন
ঝুলন যাত্রা দিব্যি কাঁপায়
শীতবস্ত্র পরে তুমি তুষারবর্ষণ দেখে যাও
হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ভালোমন্দ বলে যাও
হিড় হিড় করে টানতে থাকে
পুলিশ তো নয়,ভাগ্য রে ভাই
বলিহারি পড়তে পড়তে সামলে চলি
কান দুখানা সামলে থাকি
পরশ্রীকাতর ইচ্ছারা সব লুকোয় গর্তে
দিব্যি দেয় দিব্যি খায়
সম্পাদনা ভুলে যায়
ব্যঙ মামা কেঁদে মরে
ডুলি আর দোলায় প্রাচীন দিনগুলো ফিরে আসে। হাস্যরসে দিন কেটে যায়
উপসর্গ মারাত্মক
প্রেম, কানাই পাশাপাশি হেঁটে চলে
আঁকাবাকা পথ কদমবন জুড়ে।
কলকল ধ্বনি তুলে
ভালোবাসা পরাগ মাখে
মঙ্গলকামনা শুভার্থী জানে
ধৃত সব প্রিয়মুখ
হিড়িক চলে কল্যাণকর স্পর্শ
তোমার জন্য বাঁচতে পারি
বাঘের ডাক হালুম শুনি
হাস্নুহানা ফুল ফোটে
পাগল গন্ধে দিশাহারা
ছোট ছোট পুষ্পগুলি হাহাকার ভুলিয়ে দেয়
আমার ভিতর গব্যঘৃত খাদ্যের বাসনা বেড়ে চলে
হাহা হাহা
নিজেকে নিয়ে ঠাট্টা চলে সামলাও তো
বেয়াদপি চলতেই থাকে  করকমলে কুষ্ঠি ধরা
কুচকাওয়াজ করে চলে
বাসনারা বড়ো প্রতাপ দেখায়
#অস্তিত্ব ---------
আত্মানুসন্ধান চলতে থাকে 
প্রেতভূত, ভয়ে আধখানা
প্রেতভূমি নজরে পড়ে
নিঃশ্বাস প্রশ্বাস যা ফেলি
বহুদিনব্যাপী যজ্ঞ চলে
সদাব্রত অন্নজলাদি
প্রতিজ্ঞা ভুলে যাই
আর কত ভাই আচার বিচার
সদাপ্রফুল্ল অত চিন্তা করিনা ভাই
সম্মান সব শিকেয় রাখি
অতি উত্তম নই আমি
অস্তিত্ব বিলোপ হলে
ধ্বজাধারীকে চ্যালেঞ্জ করি
ততটা বিপন্ন নই যতটা ভাবো তুমি
উত্তম গুণ তোমার টেনশন দিয়ে চল
নৈতিক সাহস আছে
দাহ্য সব পরাক্রম নির্যাস নিয়ে ফেরে
ফুল ফোটে মনের ভিতর ঘরে
সপ্তসাগর এভাবেই দেখা চতুরাশ্রম জানা আছে সব্যসাচী উভয়হস্তে বাণক্ষেপণ সমঝে চলি জীবনযাপন আহ্লাদেতে তর সয়না
মরণ আমার, কীভাবে সামলাই
মন ছুঁয়ে রয়
মনটা বড় উশখুশ করে
সমান্তরাল সিদ্ধান্ত সব প্রোথিত হয় বীজগুলো
ধ্যান চলে, নির্ভরশীল ব্যক্তিলোক
অভ্রান্তচিত্ত হয় না বড়
দৃঢ় করি সমাবর্তন
এগিয়ে চলা পরস্পর
ভবানী এক সর্বাণী সলতে পাকায়
আমার কি, ভাঁড়ে মা ভবানী না হলেই হল
সেনা সমন্বিত শক্তি দাবড়ায়
বরদাস্ত করা কঠিন
সহজাত সংস্কার পথ ভুলে যায়
হাসাহাসি চলে বিস্তর
হিতাহত জ্ঞান ভুলে চলছে কেউ নিরন্তর
#স্বেচ্ছাচারী -----------
রক্তবর্ণ কপোল তার
আমার এমন ঐশ্বর্য নেই সাধব তাকে
স্বোপার্জিত আধুলি পয়সায় দিন কেটে যায়
বাহুবল মানায় না
ওঁ স্বাহা
দেবতার অগ্নিতে ঘৃত প্রদান চলে
অঙ্গীকার এই, বশীকরণ জানা নেই
স্বেচ্ছাচারী ভুলগুলি দাপিয়ে বেড়ায় ইচ্ছেগুলি
স্থপতি এক নগরগৃহ নির্মাণে সদা তত্ত্বাবধায়ক
তার সঙ্গে আমার জম্পেশ জমে
স্তোত্রগুলি স্তোত্রপাঠে দিন চলে
মুলতবি রাখা আছে
বৌদ্ধ সন্ন্যাসী প্রাচীন পথ ধরে চলে সম্যক জ্ঞানে
অতি আধুনিক কালচার এসে ঢোকে
গুণকথন কইতে নারি
পলায়ন পন্থা জানা আছে কিন্তু
আগেই বলে ফেলি
অকুটিল হন্তদন্ত রূপ
কেটে গেছে দিনকাল
আর বিশ্বাস নেই
অনায়াস লভ্য যা কিছু পাই সুগম্য
তাকে মনোহর রূপে দেখি
সঙ্কুলান হয় না বড়
তবুও তো সুনির্মিত দিন চলে তোমার
লড়ে যাচ্ছে বর্তমানকাল
ভবিষ্যত সঞ্চয় ধরে রাখে
জানাশোনা হতে থাকে
ভ্রমে কাটে দিনগুলো
পথগুলি জুড়তে থাকে পথের রেখা
মাটি কাটে হাতগুলো
কোদালগুলো পড়ে থাকে
এক পা দু'পা করে পিছোতে থাকি
মহারাজা মহারাণী এগিয়ে আসে।
#বিষম---------
যুদ্ধকুশলী নই আমি
মহারথী সামলে চলে।
পেছন দিকে ছুঁরি মারে, মহান সে নয়
জানি আমি মহাবীর্য, হাতুড়ে ডাক্তার বলে ফেলে
ছিন্নমস্তা রূপ তার
তার সঙ্গে পেরে ওঠা
বিষম খাই জল খাই ঘন ঘন
সমুদ্র হাঁফাতে থাকে
লবণ জল চলেনা আমার
একটি দু'টি দেশ ঘুরে
করুণা করো আমায় তুমি
ভুতের বোঝা বহা
এড়িয়ে যায় সবাই
বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে
যৎসামান্য লোভে পড়ে
উৎপাত করে ছন্নমতি
ভূঁইচাপা গাছ রোপণ করি উঠোন কোনে
হাওয়া খেলে
বেগতিক দেখে
ভূতগুলি সব পালিয়ে বাঁচে
ভুলেরা সব হর্ষধ্বনি শুনে শুনে
বেনুবন কাঁপায়
ইদুরগুলি লাফিয়ে বেড়ায়
ঘনবাঁশঝাড় ফুল দেখায়
মিহি সুরে কথা বলল কে?
বারোয়ারি পূজা চলে
বালিকাসুলভ ব্যবহার ধেয়ে আসে
পথগুলি জোড়া
ধনসম্পত্তি বেবাক ঝামেলা দেখায়
দৌড়াতে গিয়েও থুবড়ে পড়ি
বাকবিতণ্ডা জ্বলে ওঠে
দশচক্রে ভগবান ভূত ভাই,
অমানিশা ঘেরাটোপে ঢুকে পড়ে
জিভ দেখায়
নেকড়ে বাঘ, কুকুর দেখে ঘোড়সওয়ারি মূর্ছা যাবে এমনও হতে পারে
ঘোড়দৌড় চলতে থাকে
বিষম বালাই, ফড়ে ঘোরে
দালালি দেখতে দেখতে অসরল আমি
ঘ্রাণশক্তি বেড়ে যায়
খুশামোদ করে বিলক্ষণ দিন কাটাতে চাই না

Tuesday, 4 December 2018

রাজ্যপাট / স্মৃতি পাল নাথ 👤🐅🐆🌲🐆🐅 👤🌲

অহঙ্কারে পুড়ে যায় বুক
তোমার বসুধা
রাজা শুনতে পাচ্ছ? 
শস্য শ্যামল হয়ে ওঠে পৃথিবী
কার ঘাম আর মেধায়
যেভাবে গুপ্ত দরজা খুলে যায়
ভিতরের অনুরাগ বীতস্পৃহতা দীর্ঘশ্বাস
ঠেলে বেরিয়ে আসে
শিকারী এক জল খেতে অরণ্যের ভেতরে
যে জলাশয় সেখানে পৌঁছে যায়
জলের দর্পণে ভাসে ব্যাঘ্র চিতার ছায়া
অসহায় এক মুখ নিজেকে চিনতে ভয়
শিরদাঁড়া কেঁপে ওঠে।

দানাপানি কীভাবে জুটবে
ভাবতেই অন্যমনস্ক শব্দগুলো
বনের আগুন এগোতে থাকে
অরণ্যে বাতাস বয়
মনেও দাবাগ্নি জ্বলে
দেখেনা তো কেউ
শক্তি থাকতেও খাটতে চায় না
এমন গতরখেকো লোকের সঙ্গে দেখা হয়ে যায় 
দেবযানী জানো তো,উদবৃত্ত হয়ে পড়ে থাকে ভালোবাসা
শুঁয়োপোকা ঘোরে
ঈর্ষায় দগ্ধ হয় সততার মুখ
তেমন করে কাউকে আর চেনা হয়ে ওঠে না
অন্তর্ঘাত লেগে থাকে
আত্মহারা হতে ভয় পায়
বিষাদ ও চাঁদ
সম্ভ্রমের মত আলো রচনা করে
গূঢ় অভিসন্ধি বোঝে দিব্যস্বপ্ন মুছে যায়
জোনাক জ্বলে, জোনাক জ্বলে
অমাবস্যা পিছলে যায়
নির্ভেজাল পূর্ণিমা তবু
রাজা,তোমার মুখে লেগে থাকে।

Sunday, 2 December 2018

সুখের অগ্নিকুণ্ড / স্মৃতি পাল নাথ 🐦🌲🙎👫🌲🏃🌿👩‍❤️‍👩🙎🐦🐟🍁🍁🏵

চড়ুইভাতি সেরে ফিরে গেছে কিছু মোহ, মায়া
ওই দূরে পাহাড়ি রাস্তা, নদীপথ ঝর্না দেখা যায়
সুখেরও অগ্নিকুণ্ড আছে ঘৃতাহুতি দেয় দু'হাত
উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এক বৈতালিক
স্তুতিপাঠ করে রাজাকে জাগায়

দীপগুলি জ্বলে উঠল
হিতৈষী সময় ধরে রাখছে পরাগরেণু
ভালোবাসলে ক্ষতি কি যদি ধরতে পারি সুর
বৈঠক সেরে পর্যাপ্ত ভালোবাসা
মুছে দিচ্ছে ভেদরেখা
তোমাকে ফিরিয়েও দিতে পারি
যদি ঐকতান কেটে যায়
এখনও লেগে আছে ঘোর
তুমি কি জানো
যখন নক্ষত্র খসে পড়ে
তোমার বৈভবে নির্জন একটা গান
খানখান হয়ে যায়
এখনও তো পাখি এসে চারধারে গান ছড়ায়
জ্যোৎস্নায় ফুটে ওঠে চাঁপাফুল
গহন অরণ্যে পাতা ঝরে
চৈতন্য কথা বলে
রূপকল্প হারিয়ে যায়
মনোশ্চক্ষে দেখতে পাই একটি কুটির রচিত হয়
আলো পড়ে হেসে ওঠে কল্পদুয়ার

প্রত্যাখানের ভেতরে থাকে
ধুলোবালু, সংক্রমণের ভয়
মাঙ্গলিক চিহ্ন ঝুলে থাকে দেহলী কাষ্ঠফলকে
দৈবের ক্রম ঘিরে অপ্রাত্যাশিত ভাবে
কিছু মেঘ রোদ অট্টালিকায় এসে পড়ে
বৃষ্টির তোয়াক্কা না করে
বেরিয়ে পড়ে ঘর ছেড়ে যে ছেলেটি
তার পায়ের তলায় সর্ষ
প্রান্তর থেকে উঠে আসে উল্লাসধ্বনি
সপ্তপদী,শিলনোড়া ছুঁয়ে আছে আশ্চর্য শিলমোহর
গিলে খায় ভালবাসা
জড়িয়ে রাখি আপাদমস্তক আঙরাখা

Saturday, 1 December 2018

অদৃশ্য তখত, হংসধ্বনি / স্মৃতি পাল নাথ 🌿🌱🐥 🐣🐤🌿🍀🏵🌹🌺

তখতে বসে দিনগুলো যায়
একটু বিপন্নতা তো ছিলই
জালিয়াত  ঘোরাফেরা করে
দেখে হরবোলা ভালোবাসা
              রং রূপ পাল্টায়

সাহায্যকারী কিছু হাত এগিয়ে এসে
মোক্ষম প্রশ্নে জর্জরিত করে
কিছু ক্রূর অভিলাষ স্ফুর্তি পায়
টুকরো টুকরো স্পর্ধা জুড়তে চায়
                              নিষিদ্ধ প্রণয়

বাতায়ন খুলে দেখেছিল কেউ মালতীপুষ্প
জাতিস্মর তার পূর্বজন্মের কথা মনে রেখে
হেসে উঠেছিল। গত জনমের কথা
কবিতায় যেমন থাকে
মাধবীলতা দুলতে থাকে ঘরের সামনে

আজকাল দুধ দই,ঘি ফেলে রেখে
গোমূত্র গোময়কে কাছে রাখে
টোটকার কথা ভুলে গিয়ে তাঁবেদার
নাসারন্ধ্র কাঁপায়
দালানকোঠা পড়ে থাকে
ভ্রমণে যায় তরুণ তার দলবল নিয়ে
তালগাছ তালগাছ রসে বস
জোতদার এক হিমসিম খায়
দু'হাত ধরো তুমি
নির্বোধ দিনগুলি কেবল বেরিয়ে যায়
নোঙর ফেলে জাহাজ
দূরবর্তী এক পথ ইশারা করে
জলবিহারে নেমে পড়ে স্মৃতির হংসগুলি
পালকে জল নেই অতলে ডুবে আছে পা
দুগ্ধ খেয়ে জলটুকু ফেলে রাখে
জলবিম্ব বাতিঘরের বুকে
স্মারকচিহ্ন এঁকেবেঁকে ভীরুবেলা যায়
জলের উঠানামা টের পায়
দীর্ঘপথে ছড়িয়ে থাকে চাঁদের আভা
রাত বাড়লেই ব্রাত্য দুঃসাহসিক এক দঙ্গল যুবক
শ্লেষ আর বিদ্রুপ ছোঁড়ে পাড়া কাঁপায়

ছদ্মবেশে / স্মৃতি পাল নাথ

প্রতিধ্বনির মত কিছু কথা ভাবায় ফুটে থাকে চিন্তার অলিন্দে রং হয়ে ওড়ে বসন্ত বাতাসে কিছু কাঁচপোকা ঘুরে পৌষের মাঠে খড়ের গন্ধ লেগে থাকে হেমন্...