Wednesday, 12 December 2018

স্মৃতিঘর, শৈশব / স্মৃতি পাল নাথ 👫🏡

জ্যোৎস্না ঘুরে বেড়ায় মনে, কপালে টিপ চাঁদ
একা হাঁটে হনহন করে উজবুক সুখে
ফুলগুলি ফুটছে উঁচু টিলা জমিতে
রোদের সে কি অট্টহাসি
বিষম খায় রাত
একটি দুটি করে চিত্রগুলো জড়ো হয়
মেজাজে হাসিল করে অকল্পনীয় বাসনা
চাবিকাঠি দেখতে দাও
বিপন্ন বসুধা
এক বিন্দু রোদ খচখচ করে
বহুগুণে তাতায় বৃক্ষের বল্কল,
মানুষের পিঠ ঝাঁ ঝাঁ করে
যখন রোদ ওঠে
প্রসন্ন এক বেদনা ঝুলিতে ভরে ছেলেটি
ছুটতে থাকে নীল, সবুজ পুকুরে
পদ্মগুলি ফুটছে দেখো
সবুজ ধানক্ষেত হাঁ করে তাকায়
বিলোল দৃষ্টি আক্রান্ত পুকুরের মাছ,
ব্যঙগুলি লাফায়।

গ্রাম্য ললনা ফিক করে হাসে,
অতৃপ্ত ক্ষুধা
নিরালায় কাশে বার্ধক্যের যাতনা
যৌবন তুড়ি মারে
উল্টে ফেলে রঙের বালতি বিপন্ন সুখের মুখ
অবাক চাউনি
শাপলাফুল বুড়ো আঙুল তুলে ধরে ওইদিকে ডাকে
তেপান্তরের রাজপুত্তুর দৌড়ে আসে তার দিকে
পাতাগুলোয় জল খেলা করে
অহিংসা প্রেমের কোটরে ভরে
হাঁটতে থাকে হনহন দিগ্বিদিক
তোমার তো জানা আছে
অবসাদ কত ভয়ঙ্কর রূপ নেয়
পান তাম্বুল চিবোতে চিবোতে সময় চলে যায়
ঠনঠন করে
একাগ্র এক রোজনামচা
তেলের প্রদীপ জ্বালতে হলে
সলতে পাকানো কাজটি করে দ্বিপ্রহরের আগে
তোমায় তো চুপিচুপি ডেকে বলে
কেমন দেখ লাল,নীল ভুলগুলো সদর্পে হাঁটে
একটি রাস্তা চলে গেছে

ডানে বাঁয়ে ঘুরে পাহাড়ের ওদিকে
যেখানে খাড়াই আছে
দুটি পাতা একটি কুঁড়ি চোখ মেলছে
মাঝে মাঝে শক্ত তরুগুলো
পাতায় ছেয়ে আছে ছায়া দেবে তো,
রোদ তাপ শুষে নেবে
পাতার বিপ্লব
একটু একটু করে ছুঁয়ে যায়
শ্রমিক মেয়েপুরুষের ঘাম
চাপাতাগুলো প্রগাঢ় হতে থাকে
এ'দুটি হাত জানে, কোন দেশের মেয়ে
অবহেলা ভরে ডেকেছিল তোমায়
শালপাতা মোড়া সামোসা
তার হাতে ধরা  সিঙারা খাবে বলে চিৎকার জুড়ে  পেটে বড় ভুখ
মলিন আঁচলে মুছে আহ্লাদ সুখ
তোমার তো ধরা আছে
হাতে টুকরি টুকরি পাতার ফসল
এমনি করে যায় দিন
তর সয় না ভিনগ্রহের যুবকের
অনেকদিন পর বৃষ্টিতে ভিজে একসা হয়
খরাক্লান্ত পৃথিবী
জ্যোৎস্না ভেসে বেড়ায় মাঠে
গৌরব নিশ্চিত
বুঝতে পেরে কপালে চাঁদের টিপ
ঠিক করে নেয় মেয়েটি
মন ভরে খলখল করে হাসে
জ্যোৎস্নাশরীর খাদগুলিতে ভরে যায়
টইটম্বুর আলো
কাত করে ধরা থাকে মনের আয়না
চাঁদমুখের প্রতিবিম্ব। টলটল পায়ে হাঁটে একশিশু মনে অনেকগুলো ঘর
বুকের মধ্যে জেগে ওঠে বাল্যশৈশব, কৈশোর যৌবনের দিনগুলো
বালখিল্য আচরণ ভুলে
ঘরগুলোতে ঢুকে পড়ে
মাথা রাখে নিজের দু'হাতে
টানটান হয়ে শুয়ে দেখে
রঙ্গমঞ্চ তৈরি করা, পুতুলগুলো কেবল নাচে
রিহার্সাল চলছে
সুর তাল লয়
মধুর ভালোবাসায় দোলে
মাছির মত ভনভন করে ভুল, স্মৃতিঘর থেকে
কেউই বেরোতে পারেনা
শৈশবের ঘর থেকে পাল্টি খায়
দেখে মায়ের হাত কবে ছুটে গেছে
তার হাত থেকে।
চাঁদ গড়াতে থাকে
কপাল বেয়ে জ্যোৎস্না নামে। পাহাড় উপত্যকায় হৈচৈ পড়ে যায়।

No comments:

Post a Comment

ছদ্মবেশে / স্মৃতি পাল নাথ

প্রতিধ্বনির মত কিছু কথা ভাবায় ফুটে থাকে চিন্তার অলিন্দে রং হয়ে ওড়ে বসন্ত বাতাসে কিছু কাঁচপোকা ঘুরে পৌষের মাঠে খড়ের গন্ধ লেগে থাকে হেমন্...