প্রজাপতি একটি অমন ঘুরে এল শুভক্ষণে
মেঘ করেছে ভাঙছে রোদ্দুর, হিসেব খাতায় কেমন ভুল?একটি গোলাপ হেসেই পাগল যাচ্ছেতাই ফিসফিসানি, মাধবীলতা ঝুলে পড়ছে। বসতবাড়ি , চাট্টিখানি? সামলানো ঘরদুয়ার কোন পথে যাই মাধবী গো, ফুটে উঠছো দুকূল ছাপা কপালে ওই মগ্ন চাঁদ ধনুকছিলায় পড়ছে টান আগল ভেঙে গুপ্ত নির্মাণ ফসল মাঠে শস্যদানা খেয়ে চলছে ইঁদুরছানা আটপৌরে ওই দিঘিখানা জুড়ে বসছে শাপলা, শালুক, শামুক,ব্যাঙ
রঙীন আঁচল উড়িয়ে যাচ্ছে ধানের ক্ষেতে সূর্যমাদল মাটি লেপা উঠোন জুড়ে নায়রি যায় পুকুরঘাটে মাধান বেলায় নৃত্য করে কপাট খুলে একটি মেয়ে কেমন গাইছে উদম সুরে চেনামুখ কেন অচেনা হয় ধুলোয় লুটোয় বিড়ম্বনা সব সঙ্গোপনে টুকটাক ওই লেগেই থাকে বিষম ভয় পায়ের নিচে বালিয়ারি তরঙ্গ খেলে শ্রীময়ীর চোখ সজনেতলায় পথ হেঁটে যায় বৃত্তাকারে অচিন রোদ।
এই উঠোনে আমার শৈশব এক্কা দোক্কা গাড়ি চড়ে একটি নদী গুমড়ে মরে বুকের ভিতর হাপুস করে পাটাতনে পা রাখি তাই হোঁচট খেয়ে গড়িয়ে পড়ি জলের পথে চলছে মেয়ে সবুজ দ্বীপে যাবে সে বাতাস চলে, সান্ত্বনা নেই গোলাপ পাপড়ি ছড়িয়ে পড়ে মাথার উপর কে ছড়ায় ফোঁটা ফোঁটা পুণ্যে কাঁপে আমার এই বসুন্ধরা। সংকেত পাঠায় গুপ্তঘর কেমন আছিস স্মৃতি তুই? স্মৃতিরঘরে অদৃশ্য এক সোনার খাঁচা খাঁ খাঁ করে কোন পথে যাই বল রাখাল আলপথে আজ হাওয়ার ঝিলিক গ্রামগুলি সব ধেয়ে আসছে বুকের ভেতর সূর্যমুখী ফুটছে, নিভছে উঠোন ভর্তি,গভীর শ্বাস অঞ্জলি হাতে আমি দাঁড়াই কেবল নাচায় ডালপালা ফুলের বনে ঢুকে পড়ি চেতনা তাই শাসন করে ঘাম ঝরানো কৃষক মাঠে সব্জি ফলায় অলৌকিক স্নান।
দূরদূরান্তে আমি চলি নৌকাগুলি থমকে দাঁড়ায় শালুক তুলে কোঁচড়ে ভরি গেঁড়ি-গুগলি চাপা হাসে পানিসিঙ্গারা চোখা হাসি দেখছি তোমায় পরের বার। দু'বাহু জড়িয়ে ওঠে জোঁক সব পিছল পা। আমন্ত্রণ নেই ছুটি কাটে সবুজ পাতা ভর্তি হয়ে গাছগুলি সব আমায় দেখায় জীবন কেমন,কপাট খোলা নারী পুরুষ রূপকথা বক উড়ে যায় সারস হাসে মাছরাঙা সব নষ্ট বিকেল জলের ভিতর মাছ দেখে মৎসকন্যা একদিন তুই আমায় কেন ডেকেছিলি আমি জানি, কি জানি ছাই এমন থাপ্পর আমায় দিলি, পাওনা ছিল, স্মৃতির সিন্দুক ভরা আলো ঠিকরোয় বর্ণছেঁড়া গাছের পাতা জিরাফ একটি গ্রীবা দেখায় ও জিরাফ গো, তুমি কেন পিছু নিলে জলে পড়ি আমি এখন তোমায় দেখে ছলোচ্ছলে চাঁদ পড়েছে বুদবুদ ভরা জলের ভেতর তার মুখ, জোছনা ভরা উঠোন দেখে আমি করি কেবল ভুল ভুলের ভেতর অসুস্থ এক ছন্নছাড়া কবুতর ডাকে শান্তি তার প্রাণ ছুঁয়ে যায় অম্লানবদন সমুদ্র দেখে সমুদ্রের পারে উঠি স্নান করে গলদা চিংড়ি কারা ধরে? বিয়ানবেলা স্রোত কেঁপে যায় পারের দিকে দরজা খুলে ফুলগুলো আমায় রাখে বুকের ভেতর ফুটে উঠে শব্দসেনা। কোথায় বাড়ি মেঘের ঘর মেঘ তুই আমায় নিবি সঙ্গে করে সর্ষক্ষেতে ঘুরবি তুই হলুদ বুকে ঝরে পড়বি বিচি ভরা আলস্যতে মাঠ জোড়া ওই সর্ষক্ষেত আমি হাঁটি দিগ্বিদিক তুমি যাবে সঙ্গী পেলে আমার তাতে ক্ষতি কি অপরাজিতা ফুলগুলি সব বেড়ার মধ্যে ফুটে থাকে লক্ষীবাড়ি দেখতে মানা কে বলে যায় সম্মুখে একটি বাড়ি হাত ধরে তাই চেতনা কাঁপায় সমস্বরে ভুলগুলো সব রঙীন হয়ে অট্টহাস্যে চিৎকার করে
ভোরের বেলা মাগো তুমি ত্রিনয়নী এমন এলে দুয়ার খুলে আমি জাগি, জানা কি ছিল
হৃদয়পুরে!
No comments:
Post a Comment